শরণখোলার পূর্ব ধানসাগর গ্রামের জাকির জমাদ্দার হত্যাকান্ডের মামলাকে পুঁজি করে ফায়দা হাসিল ও লুটপাটে লিপ্ত হয়েছে বাদীপক্ষ। আসামীদের নিরিহ স্বজনদের অবরুদ্ধ করে রেখে তাদের ঘেরের মাছ, বাড়ির মালামাল, খড়ের গাদা লুট ও দোকানে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।
এসব ঘটনার বিষয়ে কেউ কথা বললে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আসামীদের স্বজনরা। এ ঘটনায় চরম ভীতির মধ্যে দিন কাটছে পুরুশূণ্য ওই পরিবারগুলোর নারী ও শিশুরা।
শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল উপজেলার পূর্ব ধানসাগর গ্রামে গেলে এসব অভিযোগ সত্যতা পাওয়া যায়। তবে, পুলিশ বলছে অবরুদ্ধ বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার পূর্ব ধানসাগর গ্রামে ছাগলে ধানের বীজ খাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হাতে জাকির জমাদ্দার (৫৩) নিহত হন।
এ ঘটনায় স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাত জনকে আসামী করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দুই নারী জেলহাজতে এবং অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছেন ।
সরেজমিনে দেখা যায়, আসামী সেলিম জমাদ্দারের বাড়িতে তার স্ত্রী নাছিমা বেগম কুয়েত প্রবাসী ছেলের বউ জান্নাতী বেগম ও দুই বছরের নাতী আরাফাতকে নিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এসময় কথা বলার জন্য একজন পুরুষও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্য আসামীদের বাড়িতে কোনো লোকজন নেই।
নাছিমা বেগম জানান, ছেলের বউ আর নাতী নিয়ে তিনি থাকেন কিন্তু রাত হলে ঘরের আশপাশে লোকজনের আনাগোনায় ভয়ে ঘুমাতে পারেন না। নিহত জাকিরের ছোট ভাই হুমায়ুন কবির তাদেরকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। তাদের দোকানেও তালা লাগিয়ে দিয়েছে বাদী নিজে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিহতের ভাই হুমায়ুন কবির বলেন, কাউকে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি সত্য নয়। মামলার বাদী শিউলী বেগমের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমার স্বামী কবরে পঁচতে আছে। সেই জন্যে সেলিমের দোকানে আমি নিজে তালা লাগিয়ে দিছি। যাতে আমার স্বামীর মতো দোকানের মালমাল পঁচে যায়। আমার গরুকে খাওয়াতে আসামী মন্টুর খড়ের গাদা নিয়ে নিয়েছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বলেন, জাকির হত্যাকান্ডের তিনি হত্যার বিচার চান। কিন্তু এখানে আসামীদের নিরিহ লোকজনকে হয়রানী করা হচ্ছে। নিহতের ভাই হুমায়ুন ও তার ছেলে-ভাইপোরা আসামীদের ঘেরের মাছ ও গাছের নারকেল জোর করে নিয়ে যাচ্ছে।
সেলিমের স্ত্রী-পুত্রবধুকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেনা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শরণখোলার থানার ইনসেপেক্টর (তদন্ত) মফিজুর রহমান শেখ লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, এব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএস/বার্তাবাজার