ঝিনাইদহে একটি হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যানের ভয়ে বর্তমানে বাদী ও সাক্ষীদের ৬ টি পরিবার বাড়িছাড়া।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে ২৫ নভেম্বর শৈলকুপার রত্নাট গ্রামের মাঠ থেকে বগুড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের দিন দুপুরে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ভাই নাসির উদ্দিন ইদু বাদি হয়ে শৈলকুপা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩জনকে আসামি করা হয়।
আসামিরা হলেন, নজরুল ইসলাম, মো: রাজিব বিশ্বাস, আ: রউফ মোল্লা, মো: রাকিবুল মোল্লা, মো: মনিরুল মোল্লা, মো: আসিফ, মো: আরজু বিশ্বাস, মো: ইমদাদুল ইসলাম, মো: রিপন মোল্লা, আশরাফুজ্জামান, মো: সিদ্দিক শেখ, মো: ফরিদ।
আসামিরা স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের গ্রুপের অনুসারী। মামলা দায়েরের পর চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে। মামলা তুলে নিতে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।
মামলার বাদী মামলার ইদু, সাক্ষী সায়েম শেখ, কাজী গোলাম নবী, কাজী মোহাম্মদ আলী, কাজী বিল্লাল হোসেন, তানিয়া খাতুন, সাহাবুদ্দিন অত্যাচার সইতে না পেরে বাড়ি ফেলে স্বজনদের নিয়ে পালিয়ে যায়। ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তারা বাড়ি ফিরতে পারেনি।
মামলার বাদী ইদু জানায়, বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। আদালতে সাক্ষী দিতে গেলে সেখানেও আসামিরা মারধর করতে যায়।
সাক্ষী কাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, চেয়ারম্যান বলছে আগে মামলা তুলে নিতে হবে, তারপর বাড়িতে ফিরতে হবে।
কাজী বিল্লাল জানায়, তার বাড়ি ও জমিতে ফুটবল খেলার মাঠ বানিয়েছে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন।
আরেক সাক্ষী সাহাবুদ্দিন বলেন, যাদের ঘর নেই বর্তমান সরকার তাদের ঘর তৈরী করে দিচ্ছে। আর আমাদের ঘরবাড়ি থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ী ছাড়া।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যা নিজেরা করে আমাদের নামে মামলা দিয়েছে। মানুষ যখন জানতে পেরেছে তারা নিজেরাই হত্যা করেছে জনরোষের ভয়ে তারা নিজেরাই বাড়ি থেকে পালিয়েছে। আমরা কাউকে মারিও নি, তাড়াইওনি।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তা বাজার / ডি.এস