২২, জুলাই, ২০১৮, রোববার | | ৯ জ্বিলকদ ১৪৩৯

মনে কষ্ট কোটা আন্দোলনকারীদের!

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৮

মনে কষ্ট কোটা আন্দোলনকারীদের!

রবিন আকরাম : কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ছাত্রলীগের এই হামলায় গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আছেন কয়েকজন। অনেকেই গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে আছেন। তাদের পরিবারকে গুমের হুমকিও দেয়া হচ্ছে। মেয়েদেরকেও বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। যাদের জন্য আন্দোলন করলাম তারা অাজ কোথায় এমন অভিযোগও করেছেন এক নারী আন্দোলনকারী।

কোটা আন্দোলনকারীদের নিয়ে এমন অনেক সংবাদ পত্র-পত্রিকায় দেখা গেছে। কেউ তাদের পক্ষে কথা বলছেন আবার অনেকেই তাদের বিপক্ষে কথা বলেছেন। তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষেই রয়েছে সুশিল সমাজের অনেকেই। তারা বিভিন্নভাবে ছাত্রলীগের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, যারা আন্দোলনে আহত হলো, তাদেরকেই গ্রেফতার করা হলো। আর যারা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলো সেই ছাত্রলীগ নেতারাই আইনের বাইরে রয়ে গেলো। এ কেমন বিচার!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এ সবকিছুর মাঝেই গ্রেফতার হওয়া তিনজন আন্দোলনকারীকে রিমান্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ও পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের দুটি পৃথক মামলায় তাদেরকে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। অভিযুক্তরা হলেন, জসীম উদ্দিন আকাশ, মশিউর রহমান এবং ফারুক হোসেন। তারা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক।

জসীম ও মশিউরকে গত ৯ এপ্রিল উপাচার্যের বাসায় হামলার মামলায় এবং ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ১১ এপ্রিল দায়ের করা মামলায় ফারুককে গ্রেফতার দেখিয়ে গত ৩ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারকৃত অপর আন্দোলনকারী তরিকুল ইসলামকে আদালতে প্রেরণ করা হয়নি। তরিকুলের উপস্থিতিতে আগামী ১৭ জুলাই তার রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশ গত ২ জুলাই তরিকুল এবং জসীমকে গ্রেফতার করার পরের দিন আদালতে হাজির করে। এরপর সেদিনই তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। জসীম অসুস্থ থাকায় দুজন ব্যক্তির সহায়তায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ২ জুলাই অপর আন্দোলনকারী মুহাম্মদ রাশেদ খানকে রাজধানীর ভাষানটেক থেকে গ্রেফতার করার পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

একই দিনে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মারধর করার পর পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। তাকেও উপাচার্যের বাসায় ভাঙচুরের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

শুধু গ্রেফতার নায়, এই আন্দোলনে যারা গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের অবস্থাও খু্ব বেশি ভালো নয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরুর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। তার কিডনি ও ইউরিনে ইনফেকশনসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার খরচ যোগাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গত ৩০শে জুন সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হককে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়নি বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ রয়েছে। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখান থেকেও তাকে মধ্যরাতে বের করে দেয়া হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে হাসপাতাল বদল করতে হয়।

কোটা আন্দোলনের আরেক নেতা তরিকুল ইসলামের অবস্থাও গুরুতর। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্সে রাজশাহী থেকে তাকে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তরিকুলের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। গত ২রা জুলাই বিকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে পতাকা মিছিল বের করে। সেসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলনের নেতা ও রাবি শিক্ষার্থী তারেককে রামদা, হাতুড়ি, লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তরিকুলের ডান পা ও কোমরের হাড় ভেঙে যায়।

জানা গেছে, নুরুল- রাশেদ- তরিকুল- ফারুকদের আইনি সহায়তা দিচ্ছেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়ারা। কোটা টাকা ছাড়াই তাদের এই আইনি সহায়তা দিচ্ছেন তারা। এবং তাদের জামিনের জন্যে আবেদন করেছেন। তাদের রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে আইনজীবীরা বলেছেন আন্দোলনকারীদেরকে নির্দয়ভাবে মারধর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্র আকার ধারন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারপর কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে সরকার তালবাহানা করলে অন্দোলনকারীরা ফের আন্দোলনের হুমকি দেন। তখন আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, সরকার আমাদেরকে কথা দিলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তারপর বেশ কিছুদিন পর তার আবারো অন্দােলনে নেমে আসে। তখনই তাদের ওপর এই হামলা হয়।