সাতক্ষীরার আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের নামে অভিযোগের পাহাড় জমলেও কোনো ব্যবসস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিওগ করেছেন একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান (মিলন)।
তার অভিযোগ, বইয়ের পাতা ছিড়ে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদেরদের সরকারি ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান জাকির। পাশাপাশি করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ২৫০০ টাকা অর্থ সহায়তার তালিকাতেও তিনি নয় ছয় করেছেন। ত্রাণের চাল ও অর্থ লুটপাট, বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অবৈধ অর্থ আদায়, ভিজিডি কার্ডধারীদের অর্থ আত্মসাৎ করাতেও চেয়ারম্যান জাকির বেশ পটু বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগ নেতা মিলন।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মিলন এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, চেয়রম্যান জাকিরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সংবাদ সন্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, না দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন, এলজিএসপি, কাবিখা, কাবিটা, জলবায়ু ট্রাস্টসহ নানারকম প্রকল্প থেকে এই ৯ বছরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী করোনকালীন সময়ে যে সাহায্য দিয়েছেন সেই সাহায্যের অর্থ গরীব-দুঃখীদের মাঝে যথাযথ বিতরণ না করে নিজে আত্মসাৎ করেছেন। আমফানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শত শত মেট্টিক টন চাউল, লক্ষ লক্ষ টাকাসহ বিভিন্ন প্রকার জিনিসপত্র প্রদান করেছেন। সেই সকল চাউল ও টাকার সিংহভাগ অর্থ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন আত্মসাৎ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক সহায়তার যে ২৫০০ টাকা করে টাকা দিয়েছেন তা অধিকাংশ গরীবরা পায়নি। এমনকি মোবাইল নং পরিবর্তন করে উক্ত টাকা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা আত্মসাৎ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার ২০১৬ অর্থবছরের নতুন বইয়ের পাতা ছিড়ে ৭ লক্ষাধিক টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। আনুমানিক ৩৫৭টি ভিজিডি কার্ডধারীদের থেকে জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে উত্তোলন করে ব্যাংক একাউন্টে সেই টাকা জমা না দিয়ে নিজে প্রতিমাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা মেরে খেয়েছেন। চাউল নেওয়ার খরচের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা করে উঠান অথচ খরচ সরকারি অফিস থেকেই বহন করা হয়।
মিলন দাবী করেন, চেয়ারম্যান জাকির নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন যার একটা হলো ডিগ্রী সমমানের। অথচ তিনি নিজে মেট্টিক পাশ। এই সকল প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ৯ বছরে কয়েক কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। ২টি অস্ত্রের মধ্যে একটি পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য ৯ লক্ষ টাকার যে আয়কর সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন সেটি ভুয়া ও জাল। ৩নং ওয়ার্ডের (কুড়িকাহুনিয়া, শ্রীপুর) চৌকিদার ইব্রাহীম গাজীর ভাই মুকুল গাজী ও তার অন্যান্য লোকজনের মাধ্যমে বিদ্যুতের মিটার দেয়ার নাম করে ২৩০০ টাকা করে নিয়ে ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন। অথচ যাহা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঘরে বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
জাকিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ত্রাণ লুটকারী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আবেদন জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মহোদয় জনাব তাজুল ইসলাম মিডিয়ার সামনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেও অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
জাকিরের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে প্রতাপনগরে তার প্রায় কোটি টাকার এসি বাড়ী, খুলনায় সেন্ট্রাল রোডে ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট, যার হোল্ডিং নং- ৮, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পিছনে স্ত্রীর নামে অর্ধকোটি টাকার জমি, খুলনার কয়রায় শ্বশুড়বাড়ি এলাকায় মেয়ে ও স্ত্রীর নামে জমি, প্রতাপনগর (ধামরাইট) কল্যাণপুর গ্রামে মাছের ঘেরে, ২তলা বিল্ডিং, চাকলা, পূর্ব নাকনা ও মাদারবাড়ীয়ায় শত শত বিঘা মাছের ঘের আছে। ২টি প্রাইভেট গাড়ী, ২টি মটর সাইকেল সহ নামে বেনামে ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা আছে। যা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।
আজকের সংবাদ সম্মেলন হতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী, সচিবসহ প্রশাসনের সকলের কাছে বানভাসি ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মিলন।
বার্তাবাজার/এসজে