করিডোরের চাঁদার টাকায় চলতো টেকনাফ থানার মেস: নেপথ্যে আবু ছৈয়দ মেম্বার
সিনহা হত্যা মামলার আসামী ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি থেকে বাদ পড়েনি কক্সবাজারের টেকনাফের মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানীর একমাত্র করিডোর। প্রদীপের ঘনিষ্টজন খ্যাত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আবু ছৈয়দের নেতৃত্বে থানার মেস চালানোর নামে এসব টাকা উত্তোলন করতেন বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ রয়েছে। তবে ইতিপূর্বে এই চিহ্নিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে রয়েছে প্রদীপের যোগসাজসে অসংখ্য অভিযোগের পাহাড়।
উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ একমাত্র গবাদী পশু আমদানীর করিডোরের অবস্থান। প্রতি মাসে মিয়ানমার থেকে সীমান্তের এই করিডোর দিয়ে আসে অন্তত কয়েক হাজার গবাদিপশু। যা দেশের বিভিন্ন বাজারের সিংহ ভাগ চাহিদা পূরণ করে। করিডোর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ওসি প্রদীপের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত আবু ছৈয়দ মেম্বার নামের এক ব্যক্তির ইশারায় নিয়ন্ত্রন হয় করিডোর ও করিডোর কেন্দ্রিক সকল গবাদিপশু বেচাকেনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপের দায়িত্বকালীন সময়ে আমদানীকারকদের কাছ থেকে প্রতিটি পশুর পেছনে থানার মেস খরচ বাবদ একটি অনির্ধারিত চাঁদা আদায় করা হতো। তবে পশুর মাথা পিছু টাকার সংখ্যা অনির্ধারিত হলেও টাকার অংকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হতো। আবু ছৈয়দের নেতৃত্বে শাহপরীর দ্বীপ এলাকার কাছিম ও লালু নামের দুই ব্যক্তি এসব টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও সূত্রটি আরো জানিয়েছে, আবু ছৈয়দ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে থানার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে গরু ছাগল আদায় করে থানায় পৌছে দিতেন।
আবু ছৈয়দের কাছ থেকে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন এবং মোহাম্মদ শরীফ উরফে শরিফ বলি নামের এক ব্যক্তি এসব টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান। তবে অভিযোগের তীর আপনার বিরুদ্ধে কেন এমন প্রশ্নে গালমন্দ করে তার বিরুদ্ধে ইচ্ছে মতো লিখতে বলেন।
এদিকে, ওসি প্রদীপের আটক ও ক্রসফায়ার বানিজ্যের দালাল হিসেবে শুরুতেই আবু ছৈয়দের নাম উঠে এসেছে মিডিয়া ও একটি সংস্থার রিপোর্টে। এছাড়াও আরেকটি নির্ভর্যোগ্য সূত্রের দাবী, প্রদীপের দায়িত্বকালীন সময়ে আবু ছৈয়দ হুন্ডির মাধ্যমে মাদক ও করিডোরের টাকা পাচারের একজন বড় মাপের হুন্ডি কারবারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অনির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবী, প্রদীপের অবৈধ টাকা পাচারের নেপথ্য নায়ক ছিলেন আবু ছৈয়দ।
আবু ছৈয়দের ভাষ্য মতে মুহাম্মদ শরীফের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, শুরুতে ওসি প্রদীপ জোর করে আমাকে দায়িত্ব দিলে দুই মাসের মাথায় কৌশলে আমি সরে আসি। পরে আবু ছৈয়দের নেতৃত্বে কাছিম ও লালু নামের দুই ব্যক্তি এসব টাকা উত্তোলন করতেন।
স্থানীয়দের দাবী, আবু ছৈয়দ মূলত নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের অপরাধ নির্বিগ্ন করতে ওসি প্রদীপের অপকর্মের সহযোগী হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব কারনে প্রদীপের দায়িত্বকালিন সময়ে বরাবরের মতো তার পরিবার নিরাপদে ছিলো।
বার্তা বাজার / ডি.এস