জামানতের চেক নিয়ে ঋণ গ্রহীতাকে হয়রানি, আদালতে মামলা

গোপালগঞ্জে ঋণ গ্রহীতার দেওয়া জামানতের চেক দিয়ে সেই গ্রাহককেই হয়রানির অভিযোগ উঠেছে অনন্যা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর স্বত্বাধিকারীর মো: রিপন মোল্লা (লিটন) এর বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ভুক্তযোগী মো: রনি কাজী ন্যায় বিচার চেয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- গোপালগঞ্জ সি.আর ৫১৯/২০২০, ধারা ৪৬৭/৪৬৮ দঃ বিঃ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী ভুক্তভোগী রনি কাজী গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৪৩৫, চর নারায়ন দিয়া, কাড়ারগাতীর একজন স্থায়ী বাসিন্দা। সে পেশায় গ্রীল ও ওয়ার্কসপ ব্যবসায়ী। ব্যবসায় সুবাদে জরুরি প্রয়োজনে তার পূর্ব পরিচিত অনন্যা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর স্বত্বাধিকারী দাবিদার ও উক্ত মামলার একমাত্র অভিযুক্ত মো: রিপন মোল্লা (লিটন) কর্তৃক পরিচালিত উক্ত মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ-২ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে রিপনের শর্তমতে (প্রতি পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণের জন্য ঋণগ্রহীতার নিজের একাউন্টের একটি স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাংক চেক দেওয়া) ইসলামী ব্যাংক, গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং- ২৬৪৬ এর বিপরীতে রনি কাজীর স্বাক্ষরযুক্ত ৪টি অলিখিত ফাঁকা (স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাংক চেক) চেক নং- ৩৭৯৩৩৯৬, ৩৭৯৩৩৯৭, ৩৭৯৩৩৯৮ ও ৩৭৯৩৩৯৯।

জামানত রাখে অভিযুক্ত রিপন মোল্লা। গত ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে ৫০ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার খাতায় উল্লেখ পূর্বক সাদা কাগজে রনির স্বাক্ষর রেখে তাকে ঋণ দেয় এবং পর্যায়ক্রমে বাকি টাকা বিতরণ করবে মর্মেও জানান রিপন মোল্লা। পরবর্তীতে রনির আর কোনো টাকার প্রয়োজন না হওয়ায়, সে প্রাপ্য ৫০ হাজার টাকা ঋণের সুদ বাবদ প্রতিমাসে নিয়মিত ভাবে রিপন মোল্লাকে ৫ হাজার টাকা হারে পরিশোধ করতে থাকে। একপর্যায়ে রিপন মোল্লা অসৎ উদ্দেশ্যে তার নিকট গচ্ছিত জামানতের স্বাক্ষরযুক্ত ৪টি ফাঁকা চেকের একটিতে ৫ লক্ষ ও অপর ৩টির প্রতিটিতে ৪ লক্ষ টাকা উল্লেখ করে ও তারিখ বসিয়ে মোট ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করে রনিকে উকিল নোটিশ পাঠায়।

ঘটনা জানতে পেরে রনি কাজী সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে কৌশলে রেজিস্টার খাতা দেখে নিশ্চিত হন যে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের বিভিন্ন তারিখে স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এবং ওভাররাইটিং করে পূর্বে ঋণ নেওয়া ৫০ হাজার টাকার স্থলে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে বলে দাবী মামলার বাদীর।

পরবর্তীতে, মামলার বাদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাক্ষর যাচাই পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে ন্যায় বিচার চেয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানে মামলাটি বাংলাদেশ পুলিশের ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক তদন্তনাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিপন মোল্লার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের গ্রীল নির্মাণের জন্য আমি তাকে ১৭ লক্ষ টাকা ধার দেই। আপনি অযথা ফোনে টাকা নষ্ট না করে আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন।


বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর