দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ৪০ লাখ টাকা, ৫ হাজার ইউএস ডলার ও স্বর্ণালঙ্কারের কোন খবরই জানেন না ওয়াহিদার ভাই ও মামলার বাদী শেখ ফরিদ উদ্দিন।
মুঠোফোনে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্বৃত্তের হামলায় সরকারি বাসভবনে গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে গুরুতর আহত হন ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী। এই ঘটনায় একদিন পর ইউএনও ওয়াহিদার ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় প্রথমে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা আসাদুল, রং মিস্ত্রি নবীরুল ও সান্টু কুমার বিশ্বাসকে সন্দেহভাজনভাবে আটক করে র্যাব। আটকৃতদের মধ্যে আসাদুল ইসলাম চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনওর বাসভবনে ঢুকে তার ওপর হামলা করেছিলেন বলে র্যারের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসাদুলের স্বীকারোক্তির কয়েকদিন পর ওই ঘটনায় ইউএনও অফিসের চাকরিচুত্য মালি রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রবিউলকে আটক করা হয় এবং হামলার সাথে রবিউল সরাসরি যুক্ত বলেও পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এদিকে ইউএনওর বাসভবন থেকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহানুর রহমান, ঘোড়াঘাট থানার ওসি আজিম উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম ও ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন ইউএনওর আলমারি খুলে নগদ ৩৫ লাখ টাকা, ৫ হাজার ইউএস ডলার, স্বর্ণালঙ্কার, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, টাকা জমার রশিদ, জমির দলিল সব অক্ষত রয়েছে এবং সেগুলো ওই কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতিতে ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিনের হেফাজতে দেন বলে অনলাইন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হয়।
এই খবরে নতুন করে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা! তবে আলমারিতে কোন টাকা, ইউএস ডলার ছিল না বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী ও ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন। তাকে কোন কিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। তবে তার বোনের জন্য পুরাতন কাপড় আলমারি থেকে বের করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলে শেখ ফরিদ উদ্দিন জানান।
এ বিষয়ে শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, “আমার বোনকে এক কাপড় পরেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমার বোনের পুরাতন কাপড় থাকায় নতুন কাপড় কিনতে হবে ভেবে সে নিজেই আমাকে বলেছিল, আলমারি থেকে পুরাতন কাপড় নিয়ে যেতে। আবার নতুন কাপড় সেলাই করতেও ঝামেলার। তাই আলমারি থেকে আমার বোনের ব্যবহৃত পুরাতন কাপড় নিয়ে যাই। টাকা পয়সা, ইউএস ডলার এসব কিছুই ছিল না। আমি এসবের কিছু জানিও না!”
জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “টাকার প্রশ্ন কেন আসবে? এত টাকা কি কেউ বাড়িতে রাখে? আপনারা হলে এত টাকা বাড়িতে রাখতেন? আর আমরা তো টাকা দেখিনি। শুধু পুরাতন কাপড় তার ভাই বের করে নিয়ে গেছে। টাকা পয়সার কথা যারা বলছেন তারা কিভাবে জেনেছেন আমাদের জানা নেই।”
বিরামপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার বলেন, “আমরা শুধু আলমারির চাবি ইউএনওর ভাইকে দিয়েছিলাম। টাকা পয়সার প্রশ্নই আসে না!”
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। কে কিভাবে প্রচার করেছে আমরা জানি না।”
জানতে চাইলে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, “আমার যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বক্তব্য দিয়েছে সেখানে কোথাও টাকার কথা উল্লেখ নেই। বিষয়টাকে কে কিভাবে ছাড়াচ্ছে আমরা সেটাও জানি না। এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন ইউএনওর ভাই। যদি তিনি টাকা নিয়ে থাকেন তাহলে বলুক। কিন্তু তিনিও তো জানেন না এই টাকা, ডলারের কথা! ইউএনওর বিষয়ে কেউ কেউ মিথ্যাচার চালাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।”
বার্তাবাজার/কে.জে.পি