ইটের ভাটায় কৃষি জমি না দেয়ায় হামলা-মামলা, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজের জমির পরিমান মাত্র ৯০ শতক, এদিয়ে শুরু করেন ইটের ভাটা। উদ্দেশ্য ভাটা শুরু করতে পারলে পাশের জমির মালিকেরা স্বেচ্ছায় জমি দিতে বাধ্য হবেন। যদি কোন জমির মালিক স্বেচ্ছায় জমি দিতে রাজি না হলে তার জমিতে অত্যাচার করলে দিতে বাধ্য হবে। যেমন ভাবনা তেমনি কাজ শুরু করেন গোপালগঞ্জ জেলা কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের মাজড়া গ্রামের আবদুর রহমান। এমনটি বলছিলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা কৃষক বাশার সিকদার (৩৫)।

বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় তার সাথে কথা হলে তিনি আরো বলেন, পরিবেশষ অধিদপ্তর ও কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র ছাড়াই ২০১৮ সালে নিজের ৯০ শতক জমির দিয়ে আব্দুর রহমান শুরু করেন ইটের ভাটা। তার জমির পাশের অল্প কিছু জমি ভাড়া (লিস) নিলেও অন্যদের জমি দিতে রাজি নয় তবুও সে জোর করে দখল করে নিয়েছে যারা দিতে রাজি হয়নি তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও লুট মামলা দিয়েছে। এখানে আমাদের ৩ একর (৩শ শতক) জমি আছে এর মধ্যে থেকে সে ৯০ শতক জোর করে দখলে নিয়েছে। আমাদের কাছে না জেনে আমাদের জমিতে ইট রেখে জমি চাষাবাদের অনুপযোগি করে রেখেছে। আমরা ১৫ আগষ্ট আমাদের জমিতে ধান লাগাতে গেলে আমাদের উপর লোকজন নিয়ে আক্রমন করে, পরে আমাদের ঘর-বাড়ি ভাংচুর করে। এলাকার অধিকাংশ লোক আব্দুর রহমানের সন্ত্রাস বাহিনীর ভয়ে কথা বলেনা।

বৃহস্পতিবার কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের মাজড়া গ্রামে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাজড়া (ডাঙ্গা মাজড়া) গ্রামে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে লিটা ব্রিকস নামেন একটি ইটের ভাটা সেখানে ৫-৬ জন শ্রমিক ভাটার অবকাঠামো কাজ করছে পাশে দাড়িয়ে আছে ইট ভাটার মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে তার কাছে নাম জানতে চাইলে সে কথা বলতে রাজি না বলে জানায়। ভাটার চারপাশে ধানের ক্ষেত সেখানে ধান রোপন কার হয়েছে। যদিও ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৩ তে বলা আছে আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , হাট বাজার ও ফসলি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইট ভাটা স্থাপন করা যাবে না। এসব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে “ লিটা ব্রিকস ” নামের ওই ইটের ভাটা কাজ করে যাচ্ছে।

ভাটার উত্তর পাশের ধান ক্ষেতে কৃষক কাজ করছে, অন্য পাশে মহিলা শ্রমিকেরা পাটখড়ি রোদে শুকাচ্ছে। তাদের কাছে জানতে চাইলে বলেন “আমরা আপনাদের সাথে কথা বলেছি জানতে পারলে আব্দুর রহমানের লোকজন এসে আমাদের উপর আক্রমন করবে তার ভয়ে অনেকে কথা বলে না।

ওই গ্রামের সাইদ সিকদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৫০) বলেন, কয়েক দিন আগে সকালে দেখি আমাদের বাড়িতে এসে ১৫-২০ জন লোক রামদা, লোহার রড, লাঠি নিয়ে ঘর বাড়ি ভাংচুর করে করে এবং বাড়িতে যারা ছিলেন তাদের মারপিট করে। পরে জানতে পারি আব্দুর রহমান তার ইটে ভাটায় জমি দিতে রাজি না হওয়ায় লোকজন নিয়ে এসে বাড়িতে ভাংচুর চালায়। শুধু তাই নয় যাদের কাছে জমি চেয়েছে ওই ইটের ভাটায় জমি দিতে রাজি না হলে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হযরানি করে।

এ বিষয় লিটা ব্রিক্সেরে মালিক আব্দুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ইটের ভাটার জন্য জমি চাইতে কযেকজন মুরব্বি লোক পাঠিয়েছিলাম সিকদার বাড়িতে। তারা ওই মুরব্বিদের অপমান করে এই নিয়ে তাদের সাথে মারামারি হয়। জমি দিতে রাজি না হইলে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও লুট মামলা দেওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন অনেক দিন আগে আমি ইটের ভাটা থেকে ফেরার পথে আমারে মারার জন্য ঘেরাও করে তাই আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি।

ইট ভাটার সকল বৈধ কাগজ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকল কাগজ সঠিক করে ইটের ভাটা চালাতে হলে বাংলাদেশের কোন ইটের ভাটা চালাতে পারবে না। তাছাড়া এই বিষয়টি গত শনিবার স্থানীয় ভাবে মীমাংসার জন্য বসা হয়েছিলো এবং সমাধোনের কথাও হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাশার সিকদার বলেন, স্থানীয় ভাবে বসেছিলো তবে কি মীমাংসা হলো তা বুজতে পারলাম না। সালিসীতে বলা হয়েছে আব্দুর রহমানের লোকজন আমাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করেছে সে জন্য আমরা যে মামলা করেছি সেই মামলা আমাদের তুলে আনতে এবং সে যে মামলা করেছে সেই মামলা তাকে তুলে নিতে বলা হয়েছে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর