যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন কাজিরবেড় গ্রামের প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৪২) ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে দোষারোপ করে বিষপানে আত্নহত্যা করেছেন।
অনেক স্বপ্ন সাধ ও ইচ্ছা নিয়ে নিজ স্ত্রীকে দেশের বাড়িতে রেখে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন শার্শা থানাধীন নাভারন কাজিরবেড় গ্রামের দিদার আলীর ছেলে রাফিকুল ইসলাম (৪২)।
বিদেশ থেকে স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ টাকা। তার ঘরে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। কিন্ত দেশে ফিরে—তার সব স্বপ্ন সাধ ইচ্ছা শেষ হয়ে গেছে। তাকে ছেড়ে অর্থ ও আসবাপত্র নিয়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে প্রবাসী স্বামীর ঘর ছেড়েছে স্ত্রী মনিরা ইয়াসমিন। স্ত্রীকে না পেয়ে ক্ষোভে অভিমানে বাড়ীতে এসে ফেসবুক লাইভে দাড়িয়ে কয়েকজনকে দায়ী করে। তাদের নামে আড়াইশত টাকার ষ্টামে লিখে আত্মহত্যা করেছে রফিকুল। পরিবারে নেমেছে শোকের ছায়া।
পরকীয়ায় জড়িয়ে ঘর ছাড়ে স্ত্রী মনিরা। রফিকুল বিদেশ থেকে ফিরে—স্ত্রী সন্তানকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ভাবে সুন্দরী বধুকে বুঝিয়েও ফেরাতে পারেনি বাড়ীতে। পায়নি সন্তানের দেখা। এ ব্যাথা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করছে প্রবাসী রফিকুল।
বুধবার বিকালে ফেসবুক লাইভে এসে তার মৃত্যু’র জন্যে স্ত্রী—ও শ্বাশুড়ী আয়শা আক্তার, খালা রিনা পারভিন, খালু আব্দুল, মামা শ্বশুর মিঠু ও যশোরের লাইব্রেরী প্রিন্সিপ্যাল হাবিবুর রহমানকে দায়ী করে—বিষপানে আত্মহত্যা করে সে। বুধবার দিবাগত রাতে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
মৃত প্রবাসী রফিকুল ফেসবুক লাইভে বলেন, আমি আর ১০ মিনিট পরে আত্মহত্যা করবো। আমার বাবাকে বলছি আমার বালিশের নিচে ষ্টামে অভিযুক্তদের নাম লেখা আছে তাদের নামে মামলা করতে। আমি এই লাইভে বলছি আমার মৃত্যুর জন্য আমার স্ত্রী মনিরা, শ্বাশুড়ী আয়শা আক্তার, খালা রিনা পারভিন, খালু আব্দুল, মামা শ্বশুর মিঠু ও যশোরের লাইব্রেরী প্রিন্সিপ্যাল হাবিবুর রহমান দায়ী। দেশ বিদেশের মানুষের কাছে সন্তানকে দেখার ও দোয়া করার আকুতি জানিয়ে বিষপান করেন তিনি। অভিযুুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানায় রাফিকুল।
মৃত রফিকুলের বোনের স্বামী সিমান্ত বলেন, বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা এবং কন্যার শোকের কারনে আত্মহত্যা করেছে প্রাবাসী রকিফুল। তিনি বলেন রফিকুল বিদেশ থেকে এসে তার স্ত্রী মনিরার কাছে ৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। বাড়িতে থাকা আরও প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় স্ত্রী মনিরা। পরে রফিকুল চেয়ারম্যানকে নিয়ে থানায় গিয়ে স্ত্রীর পায়ে ধরে। তারপরেও মনিরা বাড়িতে আসেনি।
নাভারন সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান জানান, মৃত রফিকুলের পিতা দিদার আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনা স্থল থেকে আলামত হিসেবে একটি মোবাইল ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনে লাইভ ভিডিও ও ষ্টামে লেখা বিষয় গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এরই মধ্যে ভিকটিমের স্ত্রী মনিরাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বার্তাবাজার/অমি