দু’ভাগ হচ্ছে হেফাজত!

দিনভর নানা আলোচনা-সমালোচনার পর রাতে হাট হাজারি মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যগের ঘোষণা দিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

যে আল্লামা শফী ছিলেন কওমি আঙ্গিনায় সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি, এককথায় হেফাজত চলতো যার কথায় তার পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে থাকে ধীরে ধীরে। অপর দিকে ছেলে আনাস মাদানীর প্রভাব বাড়তে থাকে। অভিযোগ আনা হয় নানা রকম অপরাধ ও দুর্নীতির। এ কারলেই আল্লামা শফীর সাথে দুরত্ব বাড়তে থাকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিত জুনাইদ বাবুনগরীর। যার শেষ হলো গত মাসের জুন মাসে হেফাজতের হেডকোয়ার্টার থেকে বের করে দিয়ে।

তার পরপরই সরব হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু কওমিপন্থী তরুণরা। বিভিন্ন সময় পক্ষে-বিপক্ষে জড়াতেন বাদ-বিবাদে। তারই চূড়ান্ত পরিণতি হিসাবে গত বুধবার দুপুর থেকে উত্তাল হতে থাকে হাটহাজারী মাদ্রাসা।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানীকে অপসারণসহ কয়েক দফা দাবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। সেদিন রাতেই রাতে আনাস মাদানীকে অপসারণের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ হয়েছে সেখানে। সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা আসলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে।

গত কয়েক বছর ধরেই নানা কারণে আলোচনায় ছিল ১৩ দফার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া হেফাজতে ইসলাম । দলীয়-রাজনৌতিক প্রায় সব মহলই হেফাজতকে কাছে টানার চেষ্টা করেছে। কার নেতৃত্বে হেফাজত এ প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে বারবার। কিন্তু হেফাজত সদর দপ্তরে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর সংগঠনটির ভবিষ্যতের প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। কোন্‌ পথে যাচ্ছে হেফাজত?

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হেফাজত ধীরে ধীরে কার্যত দু’ ভাগ হয়ে গেছে। এক ভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী, অন্যভাগের নেতৃত্বে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। হাটহাজারীর ঘটনা যে বিভক্তিকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও জুনায়েদ বাবুনগরীকে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে অপসারণের পরও পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হয় একবার। বাবুনগরী ও আনাস মাদানীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যে বৈঠকে দু’ জনে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি আদতে যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে যায়। বরং আরো খারাপ হয়েছে।

হেফাজত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত আদর্শগতভাবেই হেফাজতে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। মৌলিক ইস্যুতে আহমদ শফী এবং জুনায়েদ বাবুনগরীর চিন্তাধারায় ফারাক তৈরি হয়েছে। বাবুনগরীর সমর্থকদের অভিযোগ, অত্যধিক পুত্র স্নেহ আহমদ শফীকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। দীর্ঘদিন ধরেই ছেলে যা বলছে তিনি তাই করছেন। আর ছেলে আনাস মাদানী জড়িয়ে পড়েছেন নানা অনিয়ম ও নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডে। অন্যদিকে, আল্লামা শফী সমর্থকদের অভিযোগ, জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতকে সরকারের সঙ্গে দান্দ্বিক অবস্থানে নিয়ে যেতে চান। ভুল পথে পরিচালিত করতে চান সংগঠনটিকে।

বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর