যশোরের শার্শায় ফেসবুক লাইভে এসে নিজের স্ত্রীকে দায়ী করে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে সদ্য বিদেশফেরত এক যুবক। বৃহস্পতিবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত রফিকুল শার্শা উপজেলার নাভারণ কাজির বেড় গ্রামের দিদার আলীর ছেলে।
জানা যায়, বিদেশ গিয়ে নিজের উপার্জিত টাকা থেকে প্রায় ১৪ লাখের মত টাকা নিজের স্ত্রী মনিরা ইয়াসমিনের নামে পাঠায় রফিকুল। কিন্তু তাদের ঘরে একটি কন্য সন্তানকে রেখে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে মনিরা। টাকা ও দামি গয়না নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায় মনিরা। দবাড়ি ফিরে এই ঘটনা শুনে ক্ষোভে ও দুঃখে ফেসবুক লাইভে এসে কয়েকজনকে দায়ী করে আত্মহত্যা করেন রফিকুল।
এর আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে রফিকুল বলেন, ‘আমি আর ১০ মিনিট পর আত্মহত্যা করব। আমার বাবাকে বলছি, আমার বালিশের নিচে স্ট্যাম্পে অভিযুক্তদের নাম লেখা আছে তাদের নামে মামলা করতে। আমি এই লাইভে বলছি আমার মৃত্যুর জন্য আমার স্ত্রী মনিরা, শাশুড়ি আয়শা আক্তার, খালা রিনা পারভিন, খালু আব্দুল, মামাশ্বশুর মিঠু ও যশোরের লাইব্রেরি প্রিন্সিপ্যাল হাবিবুর রহমান দায়ী।’
এ বিষয়ে রফিকুলের বোনের স্বামী রেজোয়ানুল ইসলাম সীমান্ত বলেন, বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা এবং মেয়েকে কাছে না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন রকিকুল। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ও বাড়ির দামি মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় স্ত্রী মনিরা। রফিকুল স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিয়ে থানায় গিয়ে স্ত্রীকে অনুরোধ করলেও মনিরা বাড়িতে ফিরে আসেনি।
এ ব্যাপারে যশোরের নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান জানান, রফিকুলের বাবা দিদার আলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে শার্শা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে ভিকটিমের স্ত্রী মনিরাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হচ্ছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করা হবে।
বার্তাবাজার/এসজে