শ্রীনগরে ভুয়া ডাক্তারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, ১ মাসের জেল

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মোবাইল কোর্টের অভিযানে এক ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তারকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করেন।

বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীনগর উপজেলার সিংপাড়া বাজারে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এই সময় মোঃ শহিদুর রহমান নামে এক ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তারকে আটক করা হয়। সেখানেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ১ মাসের জেল প্রদান করা হয়।

মোঃ শরিফুর রহমান সিংপাড়া বাজারের জাকির হোসেন মৃধার মালিকানাধীন রতন এন্ড ব্রাদার্স ফার্মেসীতে অনেকদিন ধরে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে রোগী দেখে আসছিলেন। তাঁর সাইনবোর্ডে দেখা যায় তিনি নাক কান গলা, হাড়ভাঙ্গা, বাত ব্যথা, চর্ম ও যৌন ও মা ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। ৪/৫ মাস আগে তাঁর ভুল চিকিৎসায় ওই এলাকার মাইমুনা নামের এক ২ বছরের শিশুর জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে পৌছালে শহিদুর রহমানের ডিগ্রী নিয়ে সন্দেহ হয়। শিশুটিকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে ডাক্তার জানান তাঁকে ভুল চিকিৎসা করা হয়েছে এবং অনেক সময় নষ্ট করা হয়েছে ভুল চিকিৎসায়। শিশুটির জীবন এখন সংকটাপন্ন। শিশুটির পরিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানান।

শাহিদুর রহমান গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চেম্বার করার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার র‌্যাব নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এসময় শাহিদুর রহমান তার এমবিবিএস ডিগ্রী ও নিবন্ধনের কোন কাগজ পত্র দেখাতে না পারায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

মোবাইল কোর্টে শহিদুর রহমান তার এমবিবিএস ডিগ্রি নেই বলে স্বীকার করেন। মোবাইল কোর্ট তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে এবং ১ মাসের জেল দেয়। এসময় রতন এন্ড ব্রাদার্সের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুয়া ডাক্তার বসাবেন না বলে মুচলেকা দেন। তার ফার্মেসিতে কোন ডাক্তার বসালে তাঁকে প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে বসাবেন।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, আমরা জানতে পারি রতন এন্ড ব্রাদার্সে একজন চিকিৎসক বসে যিনি নাক-কান-গলা, হাড়ভাঙ্গা, বাতের ব্যথা, চর্ম ও যৌন ও মা ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। কিন্তু তার দ্বারা ১ জন শিশু ভুল চিকিৎসা হয়েছে। এই জন্য আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাঁর সার্টিফিকেট যাচাই করি। তিনি নিজেকে ডাক্তার প্রমান করতে ব্যর্থ হন। এতে তিনি শিকার করেন তিনি এমবিবিএস ডাক্তার নন। তাঁর অপরাধ অনুযায়ী তাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ১ মাসের জেল প্রদান করি।

তিনি আরো বলেন, ভূয়া ডাক্তারদের দৌরাত্ব ও অপচিকিৎসা বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর