কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বেহেশত আরা (৫০) নামের এক নারী সাবেক স্বামীর ছুরিতে গুরুতর আহত হয়েছে। বুকে গেঁথে যাওয়া ছুরি বের হয় পিঠ দিয়ে। এই অবস্থায়ই ছুরি বুকে চিকিৎসার জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন চার হাসপাতাল। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঘুরে সবশেষে তার ঠাঁই হয় ঢাকা মেডিকেলে।
আজ (বুধবার) সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে। অভিযুক্ত হামলাকারী মো. জিল্লুর রহমান একই এলাকার কেরামত আলী ওরফে গতা মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, ১০ বছর আগে বেহেশত আরার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক বছর পর বেহেশত আরার সঙ্গে জিল্লুর রহমানের গোপনে বিয়ে হয়। কিন্তু তাদের ঘর-সংসার হয়নি। কয়েক বছর আগে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ হলে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। জমিজমা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকে মামলা ও বিরোধ চলছিল।
এ অবস্থায় গত মাসে জিল্লুর রহমানকে তালাক দেন বেহেশত আরা। এরপর স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। প্রতিশোধ নেয়ার জন্য পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার বেহেশত আরার ওপর হামলা চালান।
ছুরিবিদ্ধ বেহেশত আরাকে প্রথমে নেয়া হয় করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে পাঠানো হয় কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে। এরপর সেখানেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিকাল ৩টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও সেখান থেকে তাকে পাঠান হয় ঢাকায়। রাত ৯টায় তাকে বহনকারী এম্বুলেন্সটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌছে।
বেহেশত আরার ছেলে বাহাদুর মিয়া জানান, আমার মা এখনও বেঁচে আছেন। হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে। তাকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে জিল্লুর রহমান পলাতক। তাকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।
বার্তাবাজার/এসজে