অবশেষে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ কে রাজশাহী বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।
আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশ ক্রমে উপ-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ প্রদান করা হয়েছে। তবে নবাগত এসপি কখন যোগদান করছেন সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি।
ফিরে দেখা এসপি মাসুদের দুই বছর:
এসপি মাসুদ জোট সরকারের আমলে ২৪ তম বিসিএসে এএসপি হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। বিগত ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ডিএমপি থেকে বদলি হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। কক্সবাজারে দায়িত্ব নেয়ার কিছু দিনপর থেকে তিনি জামায়াত নেতাদের পৃষ্টপোষকতায় জড়িয়ে পড়েন। মাদকের ট্যাগ লাগিয়ে জেলাকে পরিণত করেন অবৈধ ধান্ধার মেশিনে। জেলায় দায়িত্বকালীন সময়ে কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দুর্নীতি, টাকার বিনিময়ে মাদক কারবারীদের ছেড়ে দেয়া, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও হুন্ডি কারবারীদের নিরাপদে রাখতে চুনোপুঁটিদের আটক করে ক্রসফায়ার বাণিজ্য, অভিজাত হোটেল থেকে মাসিক চাঁদা আদায় ও সংশ্লিষ্ট জেলার জামায়াত নেতাদের পুনর্বাসন করেছেন এমনটি অভিযোগ জেলার রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজ প্রতিনিধি এবং স্থানীয়দের। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বদলি করার দাবী জানালেও কিন্তু স্বপদে বহাল থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন।
বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপের স্বীকারোক্তি মতে, মাদক বিরোধী অভিযানের নামে কক্সবাজারে পুলিশী তান্ডবের মূল হোতা ছিলো এসপি মাসুদ। তার নির্দেশেই সব কিছু হতো। মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে বিভিন্ন সময় নিরপরাধ ব্যক্তিদের আটকের প্রতিকার চেয়ে এসপি মাসুদের নিকট সরাসরি অভিযোগ করলেও তিনি প্রদীপের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি দাবী ভূক্তভোগীদের।
একটি নির্ভর যোগ্য সূত্রের দাবী, টানা দুই বছর জেলায় দায়িত্বকালে তিনি টাকার কুমিরে পরিনত হয়েছেন। আর এসব অবৈধ ধান্ধা জন্য ওসি প্রদীপকে বেপরোয়া ভাবে ব্যবহার করেছেন। অবৈধ পথে কাড়ি কাড়ি টাকা ধান্ধাকরে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে প্রচুর জায়গা সম্পত্তি কিনেছেন। এসব কাজে কক্সবাজারে তার এক স্বজ্জন চিহ্নিত ব্যক্তি জড়িত রয়েছে বলে জানাগেছে।
সর্বশেষ মেজর (অবঃ) সিনহা হত্যাকান্ডে ওসি প্রদীপকে বাচাঁনোর জন্য তিনি বিভিন্ন ছলচাতুরী করেছেন। সিনহা কান্ডের তদন্ত কালে তিনি তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই প্রেক্ষিতে উক্ত হত্যার আসামী করতে সিনহার পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। যদিও আদালত আর্জিটি গ্রহন করেননি।
এসপি মাসুদ একজন অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা দাবী করে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরোয়ার কাবেরী জানান, আমরা শুরু থেকে এসপির অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছি। সর্বশেষ সিনহা হত্যা মামলাকে তিনি ভিন্নভাবে প্রভাবিত করার অপচেষ্টার কারণে তাকে কক্সবাজার থেকে প্রত্যাহার আন্দোলনের ফলে দায়িত্বশীলদের টনক নড়েছে। তাকে শুধু প্রত্যাহার নয় দুদকের মাধ্যমে তার সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ের সকল গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযোগ যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
বার্তাবাজার/এসজে