করোনাভাইরাস মহামারীর সঙ্কটের এই সময়ে ইছামতি নদীর তীরের বেদে জনগষ্ঠীর শিশুরা যেন ঝরে না পড়ে সেজন্য উদ্যোগী হয়েছে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার একদল স্বেচ্ছাসেবী তরুণের সংগঠন ‘আলোকিত শিশু’।
সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের তালতলা বাজারের পাশে ইছামতি নদীর তীরে বেদে জনগষ্ঠীর শিশুদের জন্য ‘আলোকিত শিশু’র স্বেচ্ছাসেবীরা ৪ বছর আগে সংগঠনের নামেই একটি স্কুল গড়ে তোলেন । সাধারণ মানুষের দানের টাকায় চলে তাদের এই স্কুল।
মহামারীর আগে ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল‘আলোকিত শিশু’স্কুলে, বেশিরভাগই বেদে জনগষ্ঠীর শিশু। স্কুলে দুজন শিক্ষক তাদের নিয়মিত ক্লাস নিতেন।
সিরাজদিখানের ‘আলোকিত শিশু’ স্কুলটিও মহামারীর কারণে দেশের অন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত গত ছয় মাস ধরে বন্ধ।
এই সময়ে অনলাইনে শহরের অনেক স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হলেও বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুদের এই সুযোগ নাই। তাই ইছামতির তীরে বেদেদের নৌকায় গিয়েই ‘আলোকিত শিশুর’দুই শিক্ষক শিশুদের পড়াচ্ছেন।
নৌকায় তিন থেকে চারজনকে একসঙ্গে করে দিনে এক ঘণ্টার ক্লাস। মহামারীকালে এভাবেই চলছে বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা পর্ব।
‘আলোকিত শিশু’ স্কুলের দুই শিক্ষক ফারজানা আক্তার ও পারভেজ হাসান স্থানীয় মালখানগর ডিগ্রি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী। প্রতিদিন নৌকায় গিয়ে তারা দুজনেই চালিয়ে নিচ্ছেন বেদে শিশুদের ক্লাস।
বার্তাবাজার/কে.কে