নদীতে বেড়া দিয়ে নেতাদের মাছ চাষ, নামা নিষেধ জনসাধারণের

যশোর শহরের দক্ষিণে অবস্থিত মুক্তেশ্বরী নদীকে কৌশলে ‘বদ্ধ জলাশয়’ হিসাবে দেখিয়ে নদীর তিন কিলোমিটার অংশ আড়াআড়ি বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় কিছু নেতা। এই কারণে নদীতে নামতে পারছেন না স্থানীয় মানুষজন। বিগত ৩ মাস ধরে তাদের মাছ চাষের এই কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।

শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে বালিয়া ভেকুটিয়া বাজার থেকে নদীর এই বেড়া দেয়া শুরু। টানা দেড় কিলোমিটার পর আবরপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সেতুর পাশে আরেকটি বেড়া দিয়ে মাছ চাষের ঘের বানানো হয়েছে। এতে সরু হয়ে গিয়েছে নদীর প্রবাহমান ধারা। প্রস্থে ১২০-১৫০ ফুটের মত চলে এসেছে।

এ বিষয়ে ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যসচিব আবদুল মাজেদ বলেন, প্রবহমান নদী কখনো ইজারা হতে পারে না। এটা জনগণের সম্পদ। এতে একমাত্র জনগণের অধিকার। সরকার কোনোভাবেই এটা ইজারা দিতে পারে না। অবিলম্বে ইজারা বাতিল করে নদীটি উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান তিনি।

মুক্তেশ্বরী নদীকে ‘প্রবহমান নদী’ উল্লেখ করে ইজারা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি চিঠি দিয়েছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী। কিন্তু সেই চিঠির তোয়াক্কা না করে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ গত ৪ জুন জেলা জলমহাল কমিটির সভায় পাকদিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে তিন বছরের জন্য ভেকুটিয়া থেকে মন্ডলগাতি পর্যন্ত ১০৩ একর ৬৬ শতক নদী ইজারা দেন, যার বার্ষিক ইজারামূল্য ধরা হয় ৭ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য উজ্জ্বল রহমান বলেন, ‘মাছ চাষের জন্য অনেক টাকাপয়সা লাগে। মৎস্যজীবীরা ওই টাকা দিতে পারেন না। এ জন্য আমরা তাঁদের সঙ্গে অংশীদার হয়েছি। ১৩টি শেয়ারের মধ্যে মৎস্যজীবীদের দুটি রয়েছে।’

আরবপুর ইউপির সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মৎস্যজীবী সমিতি নদীতে মাছ চাষ করলে স্থানীয় মানুষ ঝামেলা করে। এ জন্য আমরা পাঁচ-সাতজন তাদের একটু দেখভাল করি।’

বর্তমান জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে বলেন, নদীর এই অংশ আগেও ইজারা হয়েছে। ইজারা না দেওয়ার জন্য পাউবোর দেওয়া চিঠি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। যে কারণে মৎস্যজীবীদের অনুকূলে নদী ইজারা দেওয়া হয়।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর