স্বামীর অত্যাচার ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আনজিরা বেগম (৪৮) নামে দুই সন্তানের জননী আত্মহত্যা করেছে।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহতের ভাই ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরুনা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে বদিরুজ্জামান শেখ যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলা নং- ৩৫।
মামলায় আসামি করা হয়েছে আনজিরা বেগমের স্বামী কাইয়ূম শেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে। আসামি কাইয়ুম শেখ যশোর পুরাতন কসবা পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা এবং সৈয়দপুরের দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ।
মামলার বাদী মৃতের ভাই বদিরুজ্জামান শেখ এজাহারে উল্লেখ করেছেন, প্রায় ৩০ বছর তার বোন আনজিরা বেগমের সাথে কাইয়ূম শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই ছেলে জন্ম দেন। যাদের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছর। বর্তমানে দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিপ্রার্থী।
৮ বছর পূর্বে প্রথম স্ত্রী আনজিরা বেগমকে না জানিয়ে কাইয়ূম শেখ শাকিলা পারভীন নামে আরেক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে পৃথক ভাড়া বাসাতে বসবাস করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে কাইয়ূম শেখ আনজিরা বেগমের সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন। ভরণপোষণ বাবদ কোন খরচ দিতেন না। এ নিয়ে প্রায় তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। ইতঃপূর্বে কাইয়ূম শেখ আনজিরা বেগমকে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে বলেন। সম্প্রতি গত রোববার সকালে কাইয়ূম শেখ বড় ছেলেকে কলেজে ভর্তির ব্যাপারে যশোরের বাড়িতে আসেন। এরই মাঝে আনজিরা বেগমকে মারপিট করেন।
এসময় পূর্বের মত কাইয়ুম শেখ আবারো স্ত্রীকে বিষপানে আত্মহত্যার জন্য বলেন। এতে রাগে ক্ষোভে ও মনের কষ্টে আনজিরা বেগম রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে কীটনাশক পান করেন। পরে কাইয়ূম শেখ আনজিরা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি না করে ফেলে রেখে চলে যান। ছেলেরা চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনজিরা বেগম মারা যান। ঘটনার পর থেকে কাইয়ুম শেখ পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
যশোর কোতয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শেখ তাসনীম আলম মামলার রুজুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বার্তাবাজার/অমি