কৃষি জমি রক্ষায় কৃষক, মৎস্যচাষী ও সমবায়ীদের উদ্বুদ্ধ করে সমন্বিত উদ্যোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ সভা করা হয়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার বিশেষ ওই সভার আয়োজন করা হয়। ক্রমশ কৃষি জমি কমতে থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই বিশেষ সভাটির আয়োজন করা হয়।
বর্ষার মৌসুম হওয়া সম্প্রতি চারদিকে জলাবদ্ধতা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। শ্রেণি পরিবর্তন করে অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর কাটা, আবাসন করার কারণে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষি জমিতে অপরিকল্পিত ভাবে নতুন নতুন বাড়ি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে একই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে কৃষি জমিতে আবাসস্থল নির্মাণ করে চলেছেন। অন্যদিকে কৃষিজমিকে অপরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে দিন দিন কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১ শতাংশ হারে কৃষিজমি পাচ্ছে। এভাবে কৃষি জমির পরিমাণ কমতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্ট হবে। কৃষকদের বিনা সুদে হাউজিং ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে একই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করলে এবং পরিকল্পিতভাবে ‘বায়োফক’ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে কৃষিজমি রা করা সম্ভব হবে। বিশেষ সভার আলোচনায় উঠে আসে বিষয় গুলো। মাছের চাষ বেড়ে যাওয়ায় পুকুরের কারণে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প জায়গায় বায়োফক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ার জন্য চাষীদের আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কৃষি জমি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেনের সভাপত্বিতে আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম খান সুরুজ, উপজেলা কৃষি অফিসার সাধন কুমার গুহ মজুমদার, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার এএসএম সানোয়ার রাসেল, উপজেলা সমবায় অফিসার নিবেদিতা কর, উপজেলা প্রল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফা, রায়বাজার বহুমুখী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সদস্য আমান উল্লাহ, বায়োফক চাষী আবদুর রাশিদ, নাজমুল বারী পিপুল, কৃষক আবুল কালাম, আনিছুর রহমান প্রমুখ।
বিশেষ সভায় বায়োফক চাষি আবদুর রাশিদ বলেন, বায়োফকে সতর্ক থাকলে মাছ মরার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু পুকুরে মাছ মরার সম্ভাবনা থাকে। তবে বিদ্যুতের সমস্যার কারণে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। তাই সরকারি ভাবে ভর্তুকির মাধ্যমে চাষিদের জেনারেটার দেওয়ার দাবি জানান।’ কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, মাছে ভাতে বাঙালি। তাই আমাদের দুটোরই প্রয়োজন। ধানের চেয়ে মাছে আয় বেশি হওয়ায় মাছ চাষে আগ্রহী সবাই। বায়োফকে সরকার ভর্তুকি দিলে পুকুর ছেড়ে বায়োফকে মাছ চাষ করবো।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নিবেদিতা কর বলেন, সমবায়ী আইনের মাধ্যমে অল্প জমিতে সমিতির মাধ্যমে বহুতল ভবন করে বসবাস করে কৃষি জমি রক্ষা করা যেতে পারে।’ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার এএসএম সানোয়ার রাসেল বলেন, ধানি জমি রার পাশাপাশি, মাছ চাষও টিকিয়ে রাখতে হবে। কৃষি জমি রক্ষায় মাছ চাষিদের বায়োফক পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিৎ। এ পদ্ধতিতে ২০ শতকের পুকুরের স্থলে ২৪/২৪ বর্গফুট ট্যাংকিতে ২০ শতকের সমপরিমান মাছ চাষ করা যাবে।’ উপজেলা কৃষি অফিসার সাধন কুমার গুহ মজুমদার বলেন, এক সময় বলা হতো বাংলাদেশের মানুষ ৮০ ভাগ চাষি। কিন্তু বর্তমানে তা ৪০ ভাগে নেমে গেছে। তিনি বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে। জমি ছোট হয়ে যাওয়ায় যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা যাচ্ছে না। গ্রামে সমবায়ের মাধ্যমে হাইরাইজ ভবন করলে কৃষি জমি নষ্ট হবে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, কৃষি জমিকে সুরা দেওয়া টার্গেট। জমির শ্রেণি পরিবর্তন করার উপর কঠোরতা দেখাতে হবে। কৃষি জমি রক্ষায় কৃষক, মৎস্য চাষি ও সমবায়ীদের সাথে আলোচনায় উঠে আসা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
বার্তা বাজার/ডি.এস