জেসমিন আক্তার। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন গোল্ডেন জিপিএ-৫। মেধা তালিকায় উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার ছাড়াও বিতার্কিক হিসেবে সুনামও আছে তার।
লেখাপড়ার যুদ্ধে মেধার স্বাক্ষর রাখলেও থেমে গেছে তার জীবনযুদ্ধ! ৫ম শ্রেণীতে দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয় তার বাবা। দুই বোনের বড় বোন দুররোগ্য রোগে আক্রান্ত। একমাত্র অল্প শিক্ষিত বড় ভাই চাকুরী করেন গার্মেন্টেসে৷ তার স্বল্প আয়েই পুরো পরিবার খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করে। স্থানীয় শিক্ষকদের সহযোগিতায় এসএসসি পর্যন্ত পড়লেও তার উচ্চশিক্ষা নেয়ার স্বপ্ন থমকে দাঁড়ায় অর্থকষ্টে।
অবশেষে খবর পেয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শোলাতাইড় গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী জেসমিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঁইয়া।
জানা গেছে, জেসমিন এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও উপজেলায় মেধা তালিকায় প্রথম হলেও অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। অন্যের জায়গায় জীর্ণ-শীর্ণ বাড়ি করে বসবাস করা জেসমিন হয়তো ভেবেছিল পড়াশোনা আর হবে না।
জেসমিন তার এ দুরবস্হার কথা ফেসবুক মেসেঞ্জারে মোহনা টিভির যুগ্ন- বার্তা সম্পাদক শহিদুল আলম ইমরানকে জানালে যোগাযোগ করা হয় বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঁইয়ার কাছে। পরে পুলিশ সুপার মোহনা টিভি বগুড়া জেলা প্রতিনিধি আতিক রহমানের মাধ্যমে জেসমিনের কলেজে ভর্তি ফি ও নতুন পোশাকের অর্থ পাঠান। মেধাবী এ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে চিকিৎসক হবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্হায়ী কোন ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার। এছাড়াও তাদের পারিবারিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা দিয়েছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগো বগুড়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগো বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক ওয়াফিক শিপলু, অর্থ সম্পাদক হাসিবুল আরিফ ও সিরাজুল ইসলাম।
বার্তা বাজার/ডি.এস