বরিশাল নগরীতে এক শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করানোর ঘটনা ঘটেছে। জানা যায় ওই ভুক্তভোগী ব্যাক্তি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। ইতিমধ্যে কান ধরে ওঠ-বস করানোর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
ভাইরাল হওয়া সে ভিডিওতে দেখা যায়, জমজম ইনস্টিটিউট নগরীর রূপাতলী শাখার সাবেক এক শিক্ষককে কান ধরে-ওঠ-বস করানো হচ্ছে।
তবে ভিডিওতে অন্য কারো উপস্থিতি দেখা না গেলেও কয়েকজনের কথা শোনা যায়। ভিডিওর এক পর্যায়ে দেখা যায় কোনো ছাত্রীকে বেশি নম্বর দেয়ার প্রলোভনে অনৈতিক প্রস্তাব কখনও দেবেন না বলে শিক্ষককে শপথ করায় ওসব ব্যক্তি।
ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করার সাথে সাথে ভাইরাল হয়। তবে ভিডিওটি কে করেছে বা কে প্রথম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে তা জানা যায়নি।ভুক্তভোগী শিক্ষকের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের আয়লা গ্রামে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, গত ২৬ আগস্ট হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ইমন ও তার ৬-৭ জন বন্ধু আমার পথরোধ করে। এসময় তারা আমার মোবাইল এবং মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যায় এবং পরবর্তিতে সেখান থেকে আমাকে তারা জোর করে অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর তারা এক পর্যায়ে আমাকে মারধর করে। এদর মধ্যে একজনের হাতে লাঠি ছিল। তাদের কিল-ঘুষির এক পর্যায়ে আমার নাক ফেটে যায়। তাদের ভয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কি করব বা তাদের হাত থেকে কীভাবে রক্ষা পাব কিছুই মাথায় আসছিল না তখন।
মারধরের একপর্যায়ে ইমন আমাকে কান ধরে ওঠ-বস করায়। তারপর সে আমাকে কিছু কথা বলতে বাধ্য করে। আর সেগুলো একজন মুঠোফোনে রেকর্ড করে। তারা যেভাবে যা বলতে বলেছে, আমিও তাদের হাত থেকে বাঁচতে তাই বলেছি। যা আমার জন্য অনেক কষ্টদায়ক ছিল। ছাত্রের হাতে এভাবে মারধরের শিকার হতে হবে তা আমি কখনো ভাবিনি। আমার দুর্ভাগ্য। যে অবস্থার মধ্য থেকে আমাকে যেতে হয়েছে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ইমনের ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর না পাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইমনের এক সহপাঠী জানান, ইমন আমাকে বলেছে তার স্ত্রী মনিরাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওই স্যার। কুয়াকাটায় স্যারের সাথে রাত কাটালে নাকি ভালো নম্বর দেবেন বলেছেন। তবে বিষয়টি কতুটুকু সত্য তা বলতে পারব না। এ বিষয়ে ইমন এবং তার স্ত্রী ভালো জানেন। পরে শুনেছি স্যারকে কান ধরে ওঠ-বস করিয়েছে ইমন।
কেএস/বার্তাবাজার