লোকসান ঠেকাতে পঞ্চগড় সুগার মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

দেশের সুগার মিল গুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসান ঠেকাতে ১৬ টি সুগার মিলের মধ্যে ৮টি সুগার মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশন। এ বন্ধ প্রক্রিয়ার মধ্যে পঞ্চগড় চিনি কলের নাম আসায় মিল সচল রাখতে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা দশটার দিকে পঞ্চগড় সুগার মিল এর প্রধান ফটকের সামনে পঞ্চগড় চিনিকল শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের আয়োজনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

এ সময় বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন এর সভাপতি আনারুল ইসলাম এবং পঞ্চগড় চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিম এবং শ্রমিক সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। শ্রমিকদের দাবী সরকারের ৮টি চিনিকল বিরাষ্ট্রীয়করন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। কারন সুগার মিল বন্ধ হলে শ্রমিক কর্মচারিদের না খেয়ে পথে বসতে হবে। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে পঞ্চগড় সুগার মিল বন্ধ না হয়।

বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন এর সভাপতি আনারুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে সরকার দেশের দশটি চিনিকল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শিল্প মন্ত্রনালয় তালিকা দিয়ে সরকারকে সুপারিশ করেছে মিলগুলো বন্ধ করার জন্য। সেই তালিকায় পঞ্চগড় সুগার মিল রয়েছে। ইতিমধ্যে শ্রমিকদের পাওনার হিসাব করেছে সরকার। আসলে পাওনা মিটিয়ে দিলে শ্রমিকরা আগামিতে কি করবে এটা আগে সরকারকে ভাবতে হবে।

কারন এই সুগারমিল আমাদের রুটি রুজি। সরকারের শুধু লোকসানের কথা চিন্তা করলে হবেনা এতগুলো শ্রমিকের জীবনের কথাও ভাবতে হবে। আগামি দু দিনের মধ্যে চিনিকল শ্রমিক কর্মচারি ফেডারেশন সরকারের প্রতিনিধির সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে সরকারের। সুগার মিল বাঁচাতে আমাদের সাথে একাত্ততা ঘোষনা করেছেন পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মজাহারুল হক প্রধান। তবে যাদি মিলগুলো বিরাষ্ট্রীয়করন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় তাহলে দেশের সব চিনিকল শ্রমিক কর্মচারিদের নিয়ে আমাদের বৃহত্তর আন্দোলন এর দিকে এগিয়ে যেতে।

পঞ্চগড় চিনিকল শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, এই সুগার মিল আমাদের প্রান।আন্দোলন করতে গিয়ে যদি রক্তাক্ত হতে হয় তাহলে আমি মিছিলের সামনে থাকবো। বুলেট ছুড়লে প্রথমে আমি বুক পেতে দিবো। পঞ্চগড় সুগার মিলের সকল শ্রমিককে আগামি দিনে যদি বৃহত্তর আন্দোলন হয় তাহলে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহবান জানান তিনি। পরে শ্রমিকরা স্লোগান দিয়ে সুগারমিলের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে। পঞ্চগড় সুগার মিল এর তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারি কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

পঞ্চগড় চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী রুহুল আমিন কাউছার জানান, বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দেশের ৮টি চিনি কলের বন্ধের ব্যাপারে প্রাথমিক তথ্য পাঠানো হয়েছে মাত্র। এ ব্যাপারে সরকারের উর্ধ্বতন কর্র্র্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন তারা আসলে কি করবেন।

উল্লেখ্য ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রায় ৬০ কোটি ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৪৭ কোটি টাকাসহ পঞ্চগড় সুগার মিলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ৩০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর