তিতাসের উপস্থিতি ছাড়াই বিচ্ছিন্ন করা হলো অবৈধ গ্যাস সংযোগ!

সর্বশেষ এক সমীক্ষায় এবং তিতাস কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাভার এবং আশুলিয়ায় মোট অবৈধ গ্যাস লাইনের পরিমাণ প্রায় ১১ কিলোমিটার। এর ভিতরে আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর ইউনিয়ন ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী এবং গ্রহনকারী সমৃদ্ধ এক বিস্তৃত এলাকা হিসেবে ব্যপক পরিচিতি পেয়েছে।

এই ইয়ারপুর ইউনিয়নেই শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এক অভিনব দৃশ্যের অবতারণা হলো যার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোদ গণমাধ্যমকর্মীগণ। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, অবৈধ গ্যাস সংযোগ তুলে ফেলার এই কাজে ছিলো না তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাভার জোনাল বিপনন অফিস! তিতাসের উপস্থিতি ছাড়াই অবৈধ গ্যাস সংযোগ তুলে ফেলার বিষয়টিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল।

ঘোষবাগ পূর্বপাড়ায় একটি স্পট থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগে ব্যবহৃত পাইপ ও রাইজার তুলে ফেলা হচ্ছিলো। সেখানে এই প্রতিবেদক উপস্থিত হলে মোনতাজউদ্দিন নামের একজন যিনি এই বিচ্ছিন্নকরণ কাজ তদারকি করছিলেন, তিনি জানান-‘মাননীয় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আমাদের এমপি ডা. এনাম মুজিবর সাহেবকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং মুজিবর সাহেব আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন এই এলাকার সকল অবৈধ গ্যাস সংযোগ তুলে ফেলার জন্য। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সকল এলাকাবাসী এক হয়ে সিদ্ধান্ত নেই যে এই এলাকায় কেউ আর অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেবো না, আর কেউ যদি নতুন করে আবার সংযোগ প্রদানের চেষ্টা করে তাহলে আমরা সবাই মিলে তা প্রতিহত করবো।

তিতাসের কারিগরি টিম এবং তাদের উপস্থিতি ছাড়া কিভাবে নিজেরাই ঝুঁকিপূর্ণ এই গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজটি করছেন? গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের উত্তরে সঠিক কোনো জবাব মোনতাজউদ্দিন দিতে পারেন নাই।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তিতাসের এক কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলাম যে আমরা অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবো। তবে তার নাম আমার মনে পড়ছে না।

কুন্ডলবাগ এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানে ব্যবহৃত পাইপ ও রাইজার বিচ্ছিন্ন করার কাজ তদারক করছিলেন ওই এলাকার আলহাজ মোঃ নাজিমউদ্দিন নামের একজন। তিনি জানালেন তারা নিজেরাই স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবর ভাইয়ের নির্দেশেই ঘোষবাগ এবং কুন্ডলবাগে সকল অবৈধ সংযোগ নিজেদের উদ্যোগেই বিচ্ছিন্ন করার কাজটি করছেন।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সাভার জোনাল বিপনন অফিসকে জানিয়ে তারা এই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের কাজ করছেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে মোঃ নাজিমউদ্দিন জানান, তিতাসকে তারা কিছুই জানাননি।

তবে উপরোক্ত দু’জনের কেউই জানাতে পারেন নাই যে, এই এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানের মূল হোতা কারা? কিংবা এখন যেভাবে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে অবৈধ সংযোগ কাজে ব্যবহৃত পাইপ ও রাইজার তুলে ফেলছেন, এলাকায় দুই তিনবার করে তিতাসের অভিযানে লাইন তুলে ফেলা হয়েছে, আবার রাতের আঁধারে সংযোগ নেয়া হয়েছে, আবার অভিযানে কাটা হয়েছে, তাহলে আগে এই কাজগুলো কেনো করেন নাই?

এব্যাপারে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাভার জোনাল বিপনন অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েমের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হয়। তিনি এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, যারা অবৈধ সংযোগ দিয়েছে কিংবা নিয়েছে, তারা নিজেরাই যদি অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করে, তবে এব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই। যারা অবৈধ সংযোগ দিয়েছে, তারাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে। তবে এব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদেরকে কেউ জানায়নি।

তবে ইয়ারপুরে যে কয়েকটি স্পটে শনিবার পাইপলাইন তুলে ফেলা হয়েছে, সেখানকার একটি স্পট থেকে কেউ একজন তাকে ফোন করে অবৈধ সংযোগ নিজেরা তুলে ফেলবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু সেই ব্যক্তির নাম প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম জানাতে পারেন নি।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাভারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছিলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় এক ইঞ্চি অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকবে না। ইতিমধ্যে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন কার্যক্রম চলছে, যারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এরপর, সমগ্র সাভার এবং আশুলিয়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ এর বিষয়টি আবারও সামনে আসে এবং তিতাস কর্তৃপক্ষ একটি অভিযানও পরিচালনা করে। কিন্তু তিতাসের উপস্থিতি ব্যতীত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এভাবে কি কেউ নিজেরাই অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের কাজটি দক্ষ কারিগরি টিম ছাড়া করতে পারে কিনা তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর