রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার: আদালত বাংলাদেশে স্থানান্তরের আবেদন

রোহিঙ্গাদের গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে(আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে শুনানি হবে, সেটি বাংলাদেশে স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠন। অন্তত ৩টি সংগঠনের জোট ‘ভিকটিম সাপোর্ট গ্রুপ’-এর আইনজীবীরা গত মাসে দ্য হেগের আদালতে এমন আবেদন করেন।

আবেদনকারী আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন নেদারল্যান্ডস-এর দ্য হেগ শহর থেকে কক্সবাজারস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছাকাছি আদালত স্থানান্তর করে নির্যাতিতদের বক্তব্য শোনা খুব কঠিন কাজ নয়। কিন্ত আনুমানিক ৮ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত হেগের আদালতে এসে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সাক্ষ্য প্রদান বেশিরভাগের জন্যই অসম্ভব। আইসিসি আইনে আদালত স্থানান্তরে কোনো বাধা নেই উল্লেখ করে তারা মামলাটির পুরো বা আংশিক শুনানি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় হতে পারে বলে যুক্তি দেখিয়েছেন।

আবেদনে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা না থাকলেও, আইসিসি এই আবেদনের অগ্রগতির যে বিবরণী প্রকাশ করেছে, সেই স্থান বা দেশ ‘সম্ভবত বাংলাদেশ?’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছে বিবিসি বাংলা।

সেখানে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে শুনানি হবে, সেটি যেনো নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে আদালত বসিয়ে করা হয়, সে রকম একটি আবেদন পেশ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির সব কার্যক্রম সাধারণত চলে দ্য হেগ শহরে। কিন্তু এই প্রথম এ রকম কোনো উদ্যোগ নেয়া হলো, যেখানে ভিকটিম বা নির্যাতিতদের শুনানির জন্য আদালতকেই অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের আবেদন জানানো হয়েছে। আইসিসিতে এ রকম একটি আবেদনের কথা জানা গেলো এমন সময়, যখন মিয়ানমারের দু’জন সৈন্য, যারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং তারা এরই মধ্যে দ্য হেগে পৌঁছেছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

মিয়ানমারকে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য যে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন, সেখানে এই দুটি ঘটনাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবীরা। গত মাসে আদালত স্থানান্তর সংক্রান্ত আবেদন দাখিলের প্রেক্ষিতে আইসিসির তিন নম্বর ‘প্রি ট্রায়াল চেম্বার’ আদালতের রেজিস্ট্রি বিভাগকে আদেশ দিয়েছে, দ্য হেগ থেকে অন্য কোনো দেশ, যেমন বাংলাদেশে আদালতের কার্যক্রম সরিয়ে নেয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে। আগামী ২১শে সেপ্টেম্বরের আগেই এই সম্ভাব্যতা যাচাই করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী আহমেদ জিয়াউদ্দীন বিবিসি বাংলাকে বলেন, অন্য দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শুনানির জন্য আদালত বসানোর উদ্যোগ খুবই বিরল ঘটনা। যেহেতু নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশেই আছেন, তাই এটি বাংলাদেশে হলে শুনানিতে তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ দেয়া সহজ হবে।
সূত্র: বিবিসি

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর