টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দুই সন্তানসহ প্রথম স্ত্রীকে রেখে পরকীয়া প্রেমিকাকে বিয়ে এবং প্রথম স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে কারাগারে গিয়েছেন মো. জুয়েল রানা (৩২) নামের এক গ্রামীণ ব্যাংক কর্মী। প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় জামিনে থাকলেও গতকাল (বুধবার) তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম।
অভিযুক্ত জুয়েল রানা টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বড়খালী গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে। তিনি বগুড়ার নন্দীগ্রামে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় মাঠকর্মী হিসাবে চাকরি করেন।
জুয়েল রানার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীমুল আক্তার।
জানা যায়, ২০০৮ সালে ভুয়াপুর উপজেলার রাউত বাড়ি গ্রামের তারা মিয়ার মেয়ে তাসলিমার সাথে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয় জুয়েল রানার। তাদের সংসারে দু’জন সন্তানও রয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম স্ত্রী তাসলিমাকে না জানিয়ে ভুয়াপুরের নিকরাইল বাজারের পরকীয়া প্রেমিকাকে হাসিকে বিয়ে করেন। এর আগে থেকেই প্রথম পক্ষের স্ত্রী তাসলিমা ও তার সন্তানদেরকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের কারণে মারধর করত। ধাপে ধাপে তাসলিমার বাবার কাছে বিভিন্ন প্রয়োজনে পরিশোধ করার শর্তে টাকা নিয়েও তা ফেরত দেয়নি। বরং বিভিন্ন সময় আবারও টাকা পাওয়ার লোভে মারধর করতো। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী তাসলিমা আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন অভিযুক্ত জুয়েল রানা।
বিবাদ সমাধানের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে একটি শালিস অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সকল অভিযোগ মেনে নিয়ে আপোষ করতে রাজি হয় জুয়েল রানা। এমনকি স্ত্রী-সন্তানদের ভরনপোষণও দিতে সম্মত হয় সে। উভয়পক্ষ লিখিতভাবে আপোষে সম্মত হলেও অভিযুক্ত জুয়েল রানা শর্ত ভঙ্গ করে। আবারও আগের মত আচরণ শুরু করে। যার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে।
এ বিষয়ে ভুয়াপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জুয়েল রানা ছেলে হিসাবে যথেষ্ট ভাল নয়। সম্প্রতি তার চরিত্রহীনতার কারণে তারই কাছ থেকে ঋণ নেয় এমন এক নারীর সাথে পরকীয়ায় ধরা পরে দ্বিতীয় বিয়ে করতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী তাসলিমা জানান, দীর্ঘদিনের সংসারে আমার দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সকল অত্যাচার নীরবে সহ্য করেছি। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে তাই বাধ্য হয়ে আইনের দারস্থ হয়েছি। এখন আদালতই এর উপযুক্ত বিচার করবেন। আমার এই চরিত্রহীন স্বামীর বিচার আইনগতভাবেই হবে। তবে এই রকম লোক গ্রামীণ ব্যাংকের মতন সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে প্রতিষ্ঠানের বদনাম বাড়বে।
এদিকে অভিযুক্ত জুয়েল রানার নাম্বারে ফোন দিলে নারী কন্ঠের আওয়াজ পাওয়া যায়। পরিচয় জিজ্ঞেস করলে তিনি নিজেকে জুয়েলের স্ত্রী হিসাবে দাবী করেন। তবে মামলার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন তিনি।
বার্তাবাজার/এসজে