মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ২ নং তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ব্রিটিশ বেনিয়াদের কায়দায় ইউনিয়ন বাসীর হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের যোগসাজশে বহিরাগত সংস্থার নাম পরিচয়হীন কয়েকজন যুবকদের ট্যাক্স আদায়কারী নিয়োগ দিয়ে (চুক্তিপত্র করে) অবৈধভাবে নতুন অর্থবছরসহ ২ বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করছে।
জানা গেছে, নীলফামারী থেকে আগত অনুপম সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামক (রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি বেসরকারী সংস্থা) মাঠকর্মীর পরিচয় দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশি ভয় প্রদর্শন করে। এমনকি ট্যাক্স পরিশোধ না করা হলে ট্যাক্স হোল্ডারদের বাড়ি থেকে মালামাল ক্রোক করার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে চৌকিদার নিয়োগ দেয়ার অযুহাতে রফেউদ্দীন নামক একজনকে অর্থের বিনিময়ে মাষ্টার রোলে নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য করেছ্।
অন্যদিকে হিন্দা পলাশীপাড়া মাঠের মধ্যে পুলিশ বক্স নির্মিত হলেও চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাতের স্বার্থে পূণরায় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে টালবাহানা করছে। পাশাপাশি পুলিশ বক্স নির্মাণ শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বাবদ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে গড়িমসি করছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারনে এনজিও ঋণ আদায়ে সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইউনিয়ন ট্যাক্স আদায়ে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করা হচ্ছে।সংস্থার ১২-১৩ জন কর্মী ইউপির চৌকিদার দফাদারদের সাথে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ট্যাক্স আদায় করছে। আরও জানা গেছে, আদায়কারীরা আদায়কৃত ট্যাক্সের শতকরা ২০ ভাগ অর্থ কমিশন হিসাবে গ্রহন করবে।
ইউপি সচিব সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৮ -১৯ অর্থবছরে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয়েছিল ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯০ টাকা, গত অর্থবছরে অথ্যাত ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনার কারনে আদায় হয়েছিল মাত্র ১০ হাজার ৫৭০ টাকা। এবছর অথ্যার্ৎ ২০২০-২১ অর্থ বছরের ২৭ আগষ্ট -২০২০ ইং তারিখ থেকে এপর্যন্ত মাত্র ১০-১২ দিনেই (বছরের প্রথম দিকেই) ট্যাক্স আদায় হয়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজাার টাকা। তিনি আরও জানান, বকেয়ার বছরসহ চলতি বছর এক সাথে ২ অর্থবছরের ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। হোল্ডিং ট্যাক্স জোর পূর্বক আদায় করার কোন বৈধতা না থাকলেও চেয়ারম্যান নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২ বছরের ট্যাক্স আদায় করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কোন বাসিন্দা অভাব অনটনের কারনে কেউ ১ বছরের ট্যাক্স পরিশোধ করতে চাইলেও তাদের সাথে অসদাচরণ, গালাগালি করে এমনটি পুলিশি ভয় ও মালামাল ক্রোকের হুমকি দিয়ে খাজনা আদায় করছে।
সংস্থার রেজিঃ নং ও ইউনিয়নে ট্যাক্স আদায় করার জন্য স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি আদায়কারী টিমের ম্যানেজার তারিকুল ইসলামের কাছ থেকে।
এব্যাপারে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ট্যাক্স আদায় না করা হলে ওয়ার্ডের উন্নয়ন ছোট খাটো রাস্তা ঘাট সংস্কার মেম্বরদের সম্মানীভাতা দেয়া সম্ভব হয় না। তাই একসাথে ২ বছরের ট্যাক্স আদায় করছি। সাংবাদিকরা শুধু আমার ইউনিয়ন নিয়ে লেখালেখি করে। অন্যান্য ইউনিয়ন নিয়ে লিখে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, উপজেলার সব কয়টি ইউপিতে সচিব, চৌকিদার দফাদার নিয়ে ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। বহিরাগত রেজিস্ট্রেশনবিহীন সংস্থার মাধ্যমে ট্যাক্স আদায় করা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি খোর্জ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তা বাজার / ডিএস