চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সে পার্কিং ও আলো বাতাস চলাচলের জন্য রাখা খোলা জায়গায় দোকান নির্মাণের কাজের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য গঠিতব্য কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন ও অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) টাইগারপাসের চসিক কার্যালয়ে চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শামীম করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী ও সাইটে নিয়োজিত প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠকে সুজন এ নির্দেশনা দেন।
জানা যায়, প্রয়াত সিটি মেয়র আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময়ে নগরীর ষোলশহরে নির্মিত শপিং কমপ্লেক্সের রূপ পরিবর্তন করে পার্কিংয়ের জন্য এবং আলো বাতাস চলাচলের জন্য উম্মুক্ত জায়গায় নতুন করে দোকানপাট নির্মাণ শুরু হয়। সাথে নিচ তলার মহিলা টয়লেট ও জেনারেটর রুম ভেঙে এবং শপিং কমপ্লেক্সের ছাদের উপর লোহার এ্যাঙ্গেল ও ফ্রেম বসিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দোকানপাট। যা দেখে শপিং কমপ্লেক্সের দোকানদাররা অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দোকানের নামে এমন অরাজকতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন।
দোকান নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ ও আপত্তির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী তাজুল ইসলামের নজরে আসে। বিষয়টি জানা মাত্র তিনি চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনকে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিলে চসিক প্রশাসক কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
পরে চসিক প্রশাসক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), চসিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীর সমন্বয়ে একটা টিম গঠন করে নির্মাণকাজের কোনো ত্রুটি আছে কিনা কিংবা বিদ্যমান ভবনের সম্প্রসারণের ফলে পরবর্তীতে রানা প্লাজার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা দ্রুত এ বিষয়গুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
নিচতলায় বিদ্যমান মার্কেটের দোকান মালিকরা মালামাল রেখে চলাচলের পথ সংকুচিত রাখার বিষয়ে প্রশাসক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতা নিয়ে জরিমানা করার এবং প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা দেন।
এছাড়াও শপিং কমপ্লেক্সে আলো-বাতাস চলাচল, পার্কিং প্লেস ও অভ্যন্তরীণ প্রশস্ত চলাচল ব্যবস্থাসহ আগের মতো ক্রেতা-বিক্রেতাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে প্রশাসক নির্মাণকাজের সময় শপিং কমপ্লেক্সের কিছু অংশ টিন দিয়ে ঘেরাও রাখার বিষয়ে আপত্তি জানান। তা উন্মুক্ত করে মানুষ যাতে সহজে সব কার্যক্রম দেখতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে বলেন খোরশেদ আলম সুজন।
বার্তা বাজার / ডিএস