করোনা: সহিংসতার শিকার ৬৭% শ্রমজীবী নারী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতে পারিবারিক নির্যাতন, প্রতিবেশীর কাছে বারবার সাহায্যের জন্য যাওয়ায় লাঞ্ছনা এবং বাড়ি থেকে চলে যেতে বাড়ির মালিকের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন দেশের ৬৭ ভাগ শ্রমজীবী নারী।

এ ছাড়া আর্থিক সহায়তা ও কাজ দেওয়ার কথা বলে নির্যাতন করা হচ্ছে শ্রমজীবী নারীদের। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পরিচালিত এক সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

‘কভিড-১৯ : বাংলাদেশের শ্রমজীবী নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান’ শীর্ষক ওই সমীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সমীক্ষার জন্য মহিলা পরিষদের ২৬টি জেলা শাখার সংগঠকদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে করা হয়েছে। ওই ২৬ জেলার প্রতিটি থেকে পাঁচজন করে মোট ১৩০ জন শ্রমজীবী নারী সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ নারী কারখানা শ্রমিক।

সমীক্ষায় দেখা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সমস্যায় কারখানার শ্রমিক, গৃহকর্মী, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, হোটেলের রান্না বা মসলা বাটার কাজ করতেন—এমন শ্রমজীবী নারীরা এখন ঘরে সময় কাটাচ্ছেন। বেশির ভাগেরই কাজ নেই, বেতন বন্ধ। সাধারণ ছুটিতে কারখানা বন্ধ আছে বলে ১৮ শতাংশ নারী শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারছেন না। ১৬ শতাংশ নারী আংশিক বেতন পেলেও বেতন বন্ধ রয়েছে ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিকের।

সীমিত পরিসরে কারখানা চালু হলেও নারী শ্রমিকরা আছেন চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে। এরই মধ্যে চাকরিচ্যুত হয়েছেন ১৬ শতাংশ নারী। সাময়িকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে ২০ শতাংশকে। গৃহকর্মী হিসেবে যাঁরা কাজ করতেন তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাসাবাড়িতে আপাতত কাজে নেওয়া হচ্ছে না। বেতন বন্ধ বা আংশিক বেতন থাকায় ৫২ শতাংশ নারী আর্থিক সংকটে আছেন। সূত্র: কালের কণ্ঠ।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর