চট্টগ্রামে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে আগ্রাবাদের বাদামতলীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আইয়ুব আলী নামে এক প্রাইভেট কার চালকের মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনা তদন্তে পুলিশের হাতে আসা একটা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আইয়ুব আলী (৫৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করার কথা জানায় ডবলমুরিং থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডবলমুরিং থানার উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইয়ুব আলী হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত জানায় ডবলমুরিং থানা পুলিশ।
ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, ০৪ সেপ্টেম্বর আইয়ুব আলী খুন হওয়ার তিনদিনের মাথায় ঘটনা তদন্তে পুলিশের হাতে আসা একটা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ৫ জনই পেশাদার ছিনতাইকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে আইয়ুব আলীর ছিনতাই হওয়া কালো রংয়ের ব্যাগটি উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ।
গ্রেফতার ৫ আসামি হলেন রাব্বী (২২), আল আমিন (২২), সোহেল (২৫), শাকিক ওরফে ছোট বাবু (২২), কামাল হোসেন রনি (২০)।
তিনি আরো জানান, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে রাতে শহরের বিভিন্ন নির্জন সড়কে পথচারীদের ছুরি দেখিয়ে কিংবা ছুরিকাহত করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতেও একইভাবে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে তারা রিক্সাযোগে বারেক বিল্ডিংগামী আইয়ুব আলীর পথ রোধ করে তাকে ছুরিকাহত করে তার কাছে থাকা একটি কালো ব্যাগ ছিনতাই করে। পরে আহত আইয়ুব আলীকে মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় ৬ জন জড়িত ছিল। যাদের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত অপর পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রংয়ের পিকআপ, দুটি ছুরি ও আইয়ুব আলীর ছিনতাই হওয়া কলো রংয়ের একটি ব্যাগও আসামিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ০৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লালখানবাজার এলাকায় ভাগ্নের বাসায় বেড়াতে এসে গত রাতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন আইয়ুব আলী (৫৫)। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক। নিহত আইয়ুব আলী ফরিদপুর জেলার নাগরকান্দা এলাকার কাশেম শরীফের ছেলে। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাস করতেন।
কেএস/বার্তাবাজার