মধুমতির করাল গ্রাসে হারিয়ে যেতে বসেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। চোখের সামনে নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে বাড়িঘর, গাছপালা, আবাদি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ৫০ বছরেরও অধিক সময়ের ভাঙনে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন ১৪টি গ্রামের নদী তীরবর্তী বসবাসকারী মানুষ। এসব নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন এবং উপজেলার অফিসারবৃন্দের সাথে মতবিনিময়ের নামে উল্লাস করেছেন ইউএনও মো. মিজানূর রহমান।
জানা যায়, উপজেলার অফিসার্সক্লাবের সদস্য প্রতি এক হাজার টাকা করে নিয়ে গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন এবং উপজেলার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
দেখা যায়, নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শণের নামে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার নিয়ে ওই দিন বিকাল ৪টার দিকে মধুমতি নদীতে নৌকা ভ্রমনে বের হয় কর্মকর্তারা। তারা নৌকায় চড়ে মাইক ও সাউন্ডবক্সের বাজনার তালে নেচে গেয়ে আনন্দ করতে থাকেন। সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদে ফিরে আলোকসজ্জায় সজ্জিত প্যান্ডেলে রাত ১০টা পর্যন্ত আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শীল্পিদের গান শুনে উল্লাস করেন। এরপর রাতের ভোজে সকলে অংশ নেন। শতাধিক লোকের এমন আয়োজনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে সমালোচনার ঝড় উঠে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউএনও মো. মিজানুর রহমান সম্প্রতি বদলির আদেশপ্রাপ্ত হয়েছেন। অফিসারদের বিনোদন দেওয়ার জন্য নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন এবং উপজেলার অফিসারবৃন্দদের সাথে মতবিনিময়ের নামে এসব আয়োজন করেন।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সাথে মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মহামারি করোনার কালে বিষয়টি সারা জেলায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বার্তাবাজার/এসজে