সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও প্রতিবন্ধী ভাতা বই’র কার্ড প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অর্থের বিনিময়ে ভাতা বই’র কার্ড প্রদানের অভিযোগ উঠেছে অত্র উপজেলা সমাজসেবা অফিসে কর্মরত কারিগরি প্রশিক্ষক মোছা. আমিনা খাতুনের বিরুদ্ধে।
তার বিরুদ্ধে ভাতা বই’র কার্ডপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবেই তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে আদায় করেছেন বলে এক অভিযোগে এ তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেলকুচি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে ৩৩ বছর ধরে কর্মরত কারিগরি প্রশিক্ষক মোছা. আমিনা খাতুন বিভিন্ন গ্রামের অসহায়, দুস্থদের থেকে বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে কারও কাছে ৫-৬ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন। যারা টাকা দিতে পারেননি তাদের ভাতা বইয়ের কার্ড মেলেনি। আবার অনেকের কাছে টাকা নেয়ার পরও ভাতা বইয়ের কার্ড না দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি টাকা ফেরত চাইলে অসহায়দের বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী বেলকুচি ইউনিয়নের বেলকুচি গ্রামের মৃত গোলবার হোসেনের স্ত্রী জরিনা খাতুন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরাবর এমন একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যার অনুলিপি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
জরিনা খাতুনের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি বয়স্ক ও একটি বিধবাভাতা কার্ড করে দেয়ার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষক মোছা. আমিনা খাতুন তার কাছ থেকে ১০হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা ছাড়া কাজ হবেনা বিধায় অনেক কষ্টে ধার দেনা করে তাকে ১০হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর থেকে কাজ করে দিচ্ছি, দেবো বলে ঘুড়াতে থাকেন আমিনা খাতুন। মাঝে মধ্যে সমাজসেবা অফিসে গিয়ে জরিনা খাতুন দেখতে পান, তার মতো অনেক ভুক্তভোগীই বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য টাকা দিয়ে বিপদে পড়েছেন। অনেক ঘুরাঘুরি করেও তাদের কাজ হচ্ছেনা।
কারিগরি প্রশিক্ষক আমিনা খাতুন অনেক বছর ধরে একই উপজেলায় চাকুরী করে আসছেন। যে কারণে তার সাথে অনেকেরই সখ্যতা গড়ে উঠেছে। এর আগে টাকা নিয়ে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্ড করে দিয়েছেন আমিনা খাতুন। কিন্তু এবার টাকা নিয়ে তিনি কাজও করে দিচ্ছেন না, টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে বেলকুচি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হাসান সেখ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি ছাড়াও আরেকজনের অভিযোগ দেয়ার কথা রয়েছে। সেটি পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তাবাজার/অমি