নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় মসজিদের এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঐদিন রাতেই মারা যান পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার ৭ বছরের শিশু জুবায়েরের। চিকিৎসাধীন ছিলেন বাবা।
তার মরদেহ গ্রামে আসতে না আসতেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাবা জুলহাসও।হৃদয়বিদারক এমন মৃত্যুতে তাদের গ্রামের বাড়ি রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রামে স্বজনদের আর্তনাদ-আহাজারি যেন থামছেই না।
এ খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাশফাকুর রহমান। রোববার রাতে সেখানে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান তিনি। পরিবারকে সান্তনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলে, কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি এবং তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগতভাবে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন ইউএনও মাশফাকুর।
এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় এই অসহায় পরিবারের পাশে আছি।’
জানা গেছে, জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের শুক্রবার এশার নামাজ আদায় করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাম মসজিদে যান। সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবা ও ছেলে অগ্নিদগ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে নেয়া হলে ওইদিন রাত ১টায় ৭ বছরের শিশু জুবায়ের মারা যায়।
জোবায়েরের লাশ তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের পর রোববার ভোরে গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছায়। লাশ দাফন সম্পন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই খবর আসে, তার বাবা সলেমান জুলহাসও (২৮) মারা গেছেন। ওইদিন সাড়ে ১০ টায় জুবায়েরের মরদেহ জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আর জুলহাসের লাশ আজ সোমবার সকালে জানাজা শেষে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, অভাবের কারণে জুলহাস ১০ বছর আগে স্ত্রীসহ ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে গার্মেন্ট শ্রমিকের কাজ করতেন জুলহাস। নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রেণিতে এবার জুবায়েরকে ভর্তি করান। এঘটনায় জুলহাস-জুবায়ের ছাড়াও নিহত হন রাঙ্গাবালীর আরও দুজন।
নিহতরা হলেন, উপজেলার কাউখালী গ্রামের বেলায়েত রাঢ়ীর ছেলে জামাল রাঢ়ী (৪০) এবং হাপুয়াখালী গ্রামের সাজাহান প্যাদার ছেলে নিজাম (৩৫) প্যাদা।
জানা যায়, নিহত তিন জনই পোশাক শ্রমিক হিসেবে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত ছিলেন।
ইউএনও মাশফাকুর রহমান বলেন, বাবা-ছেলেসহ রাঙ্গাবালীর চারজন মারা গেছে। বাবা ছেলের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকি দুইজনের পরিবারকেও কাল (সোমবার) দেওয়া হবে।। আমি জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। স্যার নিহতদের পরিবারকে খাস জমি দিবেন।
বার্তাবাজার/অমি