রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির নামে ধর্ষণ মামলা

রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনির নামে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এক স্কুল শিক্ষিকা। আজ (রোববার) বিকালে রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী নিজেই।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান রনির সঙ্গে ওই নারী শিক্ষিকার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ অবস্থায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইলে ভুক্তভোগী ওই নারী বিয়ের প্রস্তাব দেন। গত বছরের ১৮ এপ্রিল নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সজল কুমারের বাড়িতে গোপনে ভুয়া কাজি দিয়ে বিয়ে পড়িয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় ঘোরাঘুরির নামে ভারতের মেঘালয়, শিলিগুড়ির, মুম্বাইসহ বিভিন্ন যায়গায় নিয়ে গিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করেন। এছাড়াও গত ৫ জুন রংপুর কেরানীপাড়ার ভাড়া বাসায় এসে রাত্রিযাপন ও একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

এর কিছুদিন পর ভুক্তভোগী ওই স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীর মর্যাদা পেতে রনিকে চাপ প্রয়োগ করলে রাজনীতির পদের কথা উল্লেখ করে অপেক্ষা করতে বলেন তিনি। পাশাপাশি বিগিত দিনগুলোতে বিভিন্নভাবে ১৮ লক্ষ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, দীর্ঘ চার বছরের সম্পর্ক আমার। মিথ্যা বিয়ের কথা বলে আমার সব শেষ করে দিয়েছে। এখন বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। আমাকে চাকরীচ্যুত করারও পায়তারা করছে। এছাড়াও আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তিনি ও তার লোকজন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান রনি বলেন ওই নারীর সঙ্গে আমার পরিচয়ের সুসম্পর্ক ছিল। একটি চক্র রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেনস্থা করার জন্য তাদে প্রলুব্ধ করে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করিয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর