‘আমার ভাই দুইডা কই? আমি কেন পুড়িনি?’

৯ বছরের ছোট্ট শিশু ইয়াসিন। বড় দুই ভাইয়ের সাথে গতরাতে সেও গিয়েছিল বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করতে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মসজিদ থেকে বের হয়ে যায় ইয়াসিন। কিন্তু বের হননি বড় দুই ভাই সাব্বির ও জুবায়ের । মসজিদের ভেতরের বিস্ফোরণে পুড়ে যায় তাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাদের মৃত্যু হয়।

বড় দুই ভাইয়ের পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য খুব কাছে থেকে দেখেছে ইয়াসিন। কপালগুনে বেঁচে গেলেও এখন দুই ভাইয়ের মৃত্যুশোকে পাগলপ্রায় অবস্থা তার। মূর্ছা যাচ্ছে বার বার। মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করে বলেন উঠে, ‘আমার ভাই দুইডা কই? আমি কেন পুড়িনি? আমিও পুড়তে চাই। আমি বাঁচতে চাই না। আমার সামনেই পুড়ে গেল সবাই।’ তারপর আবারও জ্ঞান হারায়।

ইয়াসিনের মা পারুল আক্তার (৪০) মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আরবি পড়াতেন। এ থেকে আয় হওয়া অর্থ দিয়ে চালাতেন তিন ছেলের লেখাপড়ার খরচ। পারুলের তিন ছেলে গতকাল শুক্রবার গিয়েছিলেন মসজিদে নামাজ পড়তে। সেখান থেকে এক ছেলে কোনোমতে বেঁচে ফিরলেও, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নেয় বাকি দুই ছেলে।

এখন পারুল আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে বার্ন ইনস্টিটিউটে। বাবাও সেখানে। ইয়াসিন অন্যজনের বাড়িতে অচেতন হয়ে পড়ে আছে। পাশে বসে আছে স্থানীয় কয়েকজন। পারুলের বড় ছেলে সাব্বির নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের বিবিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মেজ ছেলে জুবায়ের একই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

পশ্চিম তল্লা এলাকার বোমওয়ালা বাড়ির পাশের এক বাসার দ্বিতীয় তলার ভাড়া একটি কক্ষে তিন ছেলে নিয়ে থাকতেন পারুল আক্তার। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সাব্বির আর জুবায়েরের কলেজ ব্যাগ পড়ে আছে ঘরে। শুধু নেই তাঁরা দুই ভাই।

ওই বাড়ির মালিক মো. সুমন বলেন, ‘আমার বাসায় ভাড়া থাকেন পারুল আপা। সারা এলাকার মানুষের আরবি পড়ান আপা। এই এলাকারই বাসিন্দা তিনি। ছোটবেলা থেকেই তিন ছেলেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ান পারুল আপা।’

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর