সাগর তীরে নয়, সাগরেই ভেসে বেড়াচ্ছে দোকান

স্থলের কোন বাজার কিংবা সাগরের তীরে নয়, সাগরের মোহনায়‌ই ভেসে চলে দোকান। ভেসে ভেসেই চলে কেনাবেচার কারবার।

সাগর কন্যা খ্যাত পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বঙ্গব সাগরের কোল ঘেঁষে জেগে উঠা সোনারচর ও কলাগাছিয়াচরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাগরের মোহনায় ভেসে চলে এই দোকান।

দিনের আলো শেষ হলেই আস্তে আস্তে জমে জেলে ট্রলারের ভীড়। কারণ প্রয়োজনীয় রসদ ফুরালেই ভিড় জমায় সাগরের জেলেরা। মূলত জেলেরাই এ ই দোকানের মূল ক্রেতা। ক্রেতার সঙ্গে যেন রয়েছে দোকানিরও এক মধুর সম্পর্ক।

সাগর মোহনায় ভাসমান দোকানটি দূর থেকে বোঝার উপায় নেই। মনে হবে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার মাত্র ‌। কিন্তু কাছে গিয়েট্রলারের ভেতরে ঢুকলে চোখে পরবে ভিন্ন চিত্র। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই আছে সেই দোকানে।

জানতে চাইলে ওখানকার জেলেরা জানায়, একটি ট্রলারের ভেতরে দোকানের মতো করে সাজিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যই বিক্রি করা হয় সেখানে। সাগর মোহনায় তাদের এই ভাসমান দোকানের কার্যক্রম চলছে প্রায় দু’বছর ধরে।

সাগর মোহনায় ভেসে চলা এই দোকানের ক্রেতা শুধু ওখানে থাকা জেলেরাই নয়, প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি, সৌন্দর্যে ঘেরা সোনারচর সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা প্রকৃতি প্রেমিরাও আসেন এখানে। সম্প্রতি ট্রলারযোগে সোনারচর ভ্রমনে যাওয়ার পথেই হঠাৎ চোখে পড়ে এই ভাসমান দোকানটি।

এসময় দেখা যায়, পর্যটকদের ট্রলারসহ তিনটি ট্রলার একসাথে নোঙর করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছে এই ভাসমান দোকান থেকে। চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেলসহ শুকনো খাবার থেকে শুরু করে মোটামুটি জেলেদের এবং পর্যটকদের চাহিদা পূরণ করার সবকিছুই রয়েছে সেখানে। আছে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও। কথা হয় সাগরের জেলে আজহার মিয়ার (৪৫) সঙ্গে। তিনি সেখানে এসেছিলেন তার ট্রলারের ফুরিয়ে যাওয়া রসদ কিনতে।

আজহার মিয়ার বলেন, যখন সাগরে নামি তখন মোটামুটি সবই কিন্না (কিনে) আনি, তবে মাঝেমধ্যে তাও শেষ হইয়া যায়। বেশিরভাগ ত্যাল (তেল) শেষ হয় । তখন আমাগো এতদূরের থাইকা কূলে যাইয়া ত্যাল আনা সম্ভব না। তাই আমরা এই দোকানেরতাই কিনি।

কথা হয় সোনারচর ঘুরতে আসা পর্যটক হানিফ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, সোনার চর ঘুরতে আসছিলাম। আমাদের খাবার ফুরিয়ে গেলে এখানের জেলেদের কাছে জানতে পারি এখানে একটি ভাসমান দোকান আছে। সত্যি অবাক হলাম দেখে। আসলে এটা বাংলাদেশের একটি ভিন্নধর্মী দোকান। সব জায়গায় এমন থাকলে জেলেদের অনেক উপকার হবে।

জানতে চাইলে ভেসে চলা এই ভিন্নধর্মী দোকানের উদ্যোক্তা জিয়া ফরাজী বলেন, আমরা এখানে দুই বছর যাবত ব্যাবসা করি। গত বছর একটি ট্রলারে এমন দোকান ছিল। তবে এবছর দুইটা। আমাদের বেচাকেনা মোটামুটি ভালোই হয়। তবে সকালে এবং বিকেলে বেশি বেচাকেনা হয়।

তিনি আরও বলেন, সাগরে আসার পর অনেক জেলেদেরই তেল এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফুরিয়ে যায়। তখন তারা বিপাকে পড়ে যায়। এতো দূর থেকে আসলে তাদের গিয়ে তা ক্রয় করা সম্ভব ন। তাদের এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই আমি এই উদ্যোগ নেই।

জানা যায়, দোকানের মালামাল শেষ হয়ে গেলে চরমোন্তাজ স্লুইস বাজার থেকে আবার নতুন করে মালামাল নিয়ে আসা হয় এই ভাসমান দোকানে।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর