এখনও সেই দু:সহ স্মৃতি মনে পড়লেই ঘুমের মধ্যে আঁতকে উঠেন শীতলক্ষ্যার নৌকার মাঝি খলিল। কিডনি, টিবিসহ (যক্ষ্মা) নানা জটিল রোগে আক্রান্ত খলিল মাঝি। তার কাছে এখনও মনে হয় কেউ তার মুখে কাপড় বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে পানি ঢালছে আর তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। আর তখনই ভয়ে গুটিয়ে যাওয়া খলিল স্ত্রী আর সন্তানদের জড়িয়ে ধরেন।
গতকাল (বুধবার) বিকেলে জামিনে মুক্তি পান ‘মৃত স্কুলছাত্রী’ জিসা মনির জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় পুলিশের তদন্তে ধর্ষণের পর হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়া খলিলুর রহমান। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর পুলিশের ভয়ে গণমাধ্যমকে অনেকটা এড়িয়ে চলেন তিনি।
মুক্তির পরই সন্ধ্যায় অসুস্থ খলিলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। কিন্তু অর্থের অভাবে রাতেই ফিরিয়ে আনা হয় তাকে।
আজ (বৃহস্পতিবার) কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর খলিল মাঝি বলেন, গত মাসের ৮ আগস্ট এসআই শামীম এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান। কিন্তু কি কারণে তাকে প্রেফতার করা হয় তা বলা হয়নি। সদর থানায় তার সামনে দুই ছেলেকে (জিসা মনির কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ ও অটোচালক রকিব) দেখিয়ে বলে, ‘তুই ওদের চিনিস’? তখন তিনি বলেন তাদের চিনি না।
তিনি বলেন, তারা প্রথমে আমার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধে পরে আমাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে মুখে গামছা বেঁধে অনবরত মুখে পানি ঢালে। পানি ঢালার কারণে আমার দম বন্ধ হয়ে যেত। মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়ার জন্য বারবার মুখে গামছা বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন করেছে। যদি স্বীকারোক্তি না দেই তাহলে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
আমি ওই দুই ছেলে ও কিশোরীকে জীবনেও দেখি নাই। তাদের আমি চিনি না। তবু শামীম স্যার আমাকে মারধর করেন আর বলেন, ‘তুই মিথ্যা কস। এভাবে আমাকে থানার লকআপে তিন দিন আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।
তবে খলিলের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (বর্তমানে অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এসআই শামীম। তিনি বলেন,
তার অভিযোগ মিথ্যে, তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। তাকে যদি মারধর ও নির্যাতন করা হতো তাহলে তো তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বলতে পারতেন। ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারোক্তি নেয়ার আগেও তাকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছেন। সেখানে তো খলিল এসব অভিযোগের কথা বলতে পারতেন।
তবে কেন জেলা পুলিশের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এসআই শামীমকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এছাড়া মৃত জিসা মনি কীভাবে ফিরে এলো-এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি এসআই শামীম আল মামুন।
কেএস/বার্তাবাজার