কুড়িগ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরলেন ভারতের কারাগার থেকে মুক্ত ২৫ বাংলাদেশি

বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে গিয়ে আটক হন কুড়িগ্রামের ২৬ বাংলাদেশী ।ভারতের জেলে দীর্ঘদিন বন্দি জীবন কাটাতে হয় ২৬ বাংলাদেশীকে।

এর মধ্যে একজন কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেও বাকিদের সময় কাটে চরম আতংক আর দুশ্চিন্তায়। সেই ভোগান্তির সময়গুলো এখন কেটে গেছে। নানা জটিলতার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অবশেষে ২৫ বাংলাদেশি বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে পেরেছে।

ছবি: বার্তা বাজার।

দীর্ঘ ১২৩ দিন পর প্রিয়জনদের কাছে ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাসিত স্বজনরা।গতকাল(২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারি-চেংড়াবন্ধা দিয়ে দুপুরে তারা প্রবেশ করেন নিজ দেশে,এর পর সন্ধা ৭টার দিকে নিজ জেলায় প্রবেশ করেন মুক্তি পাওয়া ২৫ জন।

এরপর কুড়িগ্রাম জেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুলের শ্রদ্ধা জানান দেশের বীর শহিদদে, শ্রদ্ধা জানানো শেষে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে গ্রামের বাড়ি চিলমারীর দিকে রাত ১০টার দিকে রওনা দেন তারা। পরে রাত ১২ টার দিকে স্বজনদের সাথে দেখা হয় এবং এসময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে এই ২৫ বাংলাদেশী। নিজেদের সন্তান, স্বামীদের পেয়ে খুশি চিলমারীর রমনা ইউনিয়নের ঐ নারীরা।

ছবি: বার্তা বাজার।

তারা জানান,” পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা ভারতে আটক থাকায় পরিবারগুলো ভীষণ দুর্ভোগের মধ্যে দিন অতিবাহিত করেছেন। এছাড়া কোনো দোষ না করেও তাদের জেল থেকে মুক্ত করে আনাটা দূরহ হলেও ভারতীয় আইনজীবীদের সহায়তায় পরিবারের লোকজনকে ফিরে পেয়ে তারা খুশি। একই সঙ্গে যারা এর নেপথ্যে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানান স্বজনরা।”

২৬ বাংলাদেশীদের মুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন বিভিন্ন সময় আন্দোলন করা রেল নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ আন্দোলন গনকমিটির সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান নলেজ বলেন,”বৈধ ভিসা নিয়ে যাবার পরও ভারতে আটক এসব শ্রমজীবী ভাইদের মুক্তির জন্য দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন করেছি,আজ তারা মুক্তি পাওয়ায় আমরা ভীষণ খুশি।”

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ২৬ বাংলাদেশি ভারতে যান। বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণ ভিসা থাকলেও ভারতে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন চলার মধ্যে গত ২ মে ওই ২৬ জন বাংলাদেশি দুটি মিনিবাসে আসামের জোরহাট জেলা থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা দেন। ওই সময় পশ্চিমবঙ্গের চেংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা ছিল তাদের। এসময় বাহালপুর এলাকা থেকে আটক করে আসামের ধুবড়ি জেলা পুলিশ।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর