লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় চুরির অভিযোগ এনে আমির হোসেন নামের এক কৃষককে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করার নির্দেশদাতা হিসাবে নাম উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নামে।
৩১ আগস্ট রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের চরআলী হাসান এলাকায়। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের নাম আবু ইউসুফ ছৈয়াল। তিনি চররমনী মোহন ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।
অভিযোগ উঠেছে কৃষক আমির হোসেনকে মারধর করে তার পরিবারের লোকদের কাছ থেকে সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়ে মামলা না করার প্রতিশ্রুতি আদায় করেছেন উক্ত চেয়ারম্যান। গর সোমবার (৩১ আগস্ট) আমির হোশেনকে উদ্ধার করে হাসপাতাকে ভর্তি করা হলেও চেয়ারম্যানের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কৃষক আমির হোসেনের পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট রাতে ঘরে ফেরার পথে প্রতিবেশি সোহাগ, জুলহাস, আরিফ ও দেলু নামের কয়জন ব্যক্তি তাকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে। একপর্যায়ের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল ও ইউপি সদস্য স্বপন ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তাদের নিরদেশে আবারও মারধর শুরু হয় আমির হোসেনকে। পরে ইউপি সদস্য স্বপনের বাড়িতে শুরু হয় সালিশ বৈঠকের।
নির্যাতিত আমির হোসেন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল দীর্ঘদিন ধরে তার কাছ থেকে কিছু জমি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। ওই জমি দিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালায় চেয়ারম্যানের অনুসারীরা। পরে সালিশ বৈঠকে মামলা না করা ও প্রকাশ্যে চিকিৎসা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর আমির হোসেনের স্ত্রী ও তিন সন্তানের কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল আমির হোসেনের ওপর নির্যাতনের সত্যতা স্বীকার করলেও এরসঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমির হোসেনকে চুরি করার অপরাধে স্থানীয়রা মারধর করেছে। এরসঙ্গে জমিজমার কোনো সম্পর্ক নেই।’
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রিয়াজুল কবির জানান, ‘কৃষক আমির হোসেনকে নির্যাতনের বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বার্তাবাজার/এসজে