চার মেয়ের মধ্যে একমাত্র বাঁচার অবলম্বন ছিলো চার বছরের ওয়াজকুরুনী জুনাঈদ। দিনমজুর পরিবারটি অনেক কষ্টে সন্তানদের নিয়ে জীবন চালাচ্ছিলেন। কিন্তু গত ৯ মাস আগে এক রাতে জুনাঈদদের ঘরে অগ্নিকান্ড ঘর ও জুনাঈদের ঘুমন্ত দেহ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
দিনমজুর পরিবারটির অসহাত্ব দূর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি পাকা বাড়ি করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকা বাড়িতে পরিবারটিকে তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন।
উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের দিনমজুর দুলাল মিয়ার ছেলে জুনাঈদ। বাবা-মায়ের সঙ্গে জুনাঈদ ঘুমাত। অন্য পাশে দুটি গরু রাখা হতো। বারান্দায় চলত পরিবারটির রান্নাবান্না। রান্না ঘর থেকে গত ২১ নভেম্বর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়ে ঘর ও ঘুমন্ত জুনাঈদ পুড়ে মৃত্যু বরণ করে। ওই সময় জুনাঈদের মা পাশের বাড়িতে থাকায় ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেন নি। বিষয়টি নিয়ে ২২ নভেম্বর সমকালের লোকলয় পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ওই দিন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরিদ্র পরিবারটিকে ঘর দেবার আশ্বাস দেন। তারই প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টিআর/কাবিখা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ (পাকা বাড়ি) নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের তত্বাবধানে অসহায় পরিবারটির ভিটেতে পাকা বাড়ি করে দেওয়া হয়।
সোমবার পরিবারটিকে নতুন ঘরে প্রবেশ করাতে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন। এ সময় সাথে ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ সভাপতি নূরুল ইসলাম খান সুরুজ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
জুনাঈদের মা মুর্শিদা খাতুন বলেন, ‘নগরে আমি মাইগ্গা খাইতাম। তবুও আমার পোলাডা বাইচ্চা থাকতো। আমারে সরকার নতুন ঘর দিছে। এই ঘরে তো আমার বাজান নাই। আমার মন তো এই ঘরে লইতো না।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৯-২০ অর্থ বছরের টিআর/কাবিখা প্রকল্পে দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দেওয়া হয়েছে অসহায় দিনমজুর পরিবারটিকে। একমাত্র ছেলে হারিয়ে পরিবারটি অবলম্বন হারিয়েছে।
বার্তা বাজার / ডি.এস