নরসিংদীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নারী ইউপি সদস্যের যৌন হয়রানির অভিযোগ
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাছিহুল গনি সরকার স্বপনের বিরুদ্ধে ওই ইউনিয়নের ১,২,৩ এর মহিলা ওয়ার্ড সদস্য নাজনীন সুলতানা যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছে।
ওই নারী ইউপি সদস্য নাজনীন সুলতানা জানান, ‘আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাছিহুল গনি স্বপন। শপথ নেওয়ার পর থেকে সে আমারে অনেক ভাবে পরিষদে ৫ টা পর আসার জন্য এবং ঢাকায় বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য সে আমারে বহু উত্যক্ত করেছে। আমি রাজি না হওয়াতে সে আমারে পরিষদের কোন কাজ দিবে না বলিয়া আমার সাথে একটা হাতাহাতি একটা গণ্ডগোল করছে। গণ্ডগোল করার পরও আমি তারে মাফ করে দিছি। উপজেলা চেয়ারম্যান স্যার তারে মাফ করাই দেওয়াইছে। পরর্বতীতে সে আবার, আমি বাড়ি থেকে ২ জন মহিলা নিয়া আসছিলাম চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটের জন্য। সে টাকা ছাড়া দিবে না। ২ জন মহিলা, আমারে এক ঘন্টা বসাইয়া রাখিয়া পরে সে আমারে ইশারায় দো-তলায় নিয়া গেছে। নিয়া যাইয়া সে আমারে জড়াইয়া ধরিয়া কাপড়-চোপড় খুইলা হালাইছে। পরে আমি চিল্লা-চিল্লি কইরা নিচে আসার পরে এক মেম্বারনি ও এক ম্বেমার ছিল অফিসে বসা। ওরা আমারে উদ্ধার করছে।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পরে আমি থানায় গিয়েছি, থানায় ওরা মামলা নেয়া নাই। না নেওয়ার আমি কোর্টে যাইয়া মামলা করছি। সে কিছু দিন আগে মহিলা নিয়া নরসিংদী ধরা খাইছে। সেখানে জরিমানাও দিছে। সে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে এমন করতাছে। অনেকে মেয়েদের সে হয়রানী করছে এই পর্যন্ত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চেয়েছেন ভোক্তভোগী ওই নারী সদস্য।
এ ছাড়া চেয়ারম্যান মাছিহুল গনি সরকার স্বপনের অনৈতিক কর্মকান্ড ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎতের অভিযোগ এনে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৪ জন ওয়ার্ড সদস্য ১২ আগস্ট নরসিংদী জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাধারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাছিহুল গনি সরকার স্বপন। তার দাবি এগুলো মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন।
ও নারী ইউপি সদস্যের মামলার বিষয়ে তিনি জানান, মামলাটি পিপিআই তদন্ত করছে। মামলায় যে তারিখ দেওয়া হয়েছে, ওই দিন আমি ভিজিএফ এর মাল বিতরণ করছি। আমার কাছে প্রমাণ আছে।
মামলার বিষয়ে নরসিংদী পিপিআই পুলিশের পুলিশ পরির্দশক মোস্তফা বলেন, আদালতের আদেশে এ ঘটনার তদন্তের দায়িত্বভার পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি