রাজা নেই তবে আছে রাজা পাহাড়

নাঈম ইসলাম: পাখির কল কাকলি আর হালকা নীলের সমারোহ মন্ডিত রাজা পাহাড়ের উপরে ওঠলে মনে হবে পাহাড় আর আকাশ যেন মিতালী করেছে। টিলাটি স্থানীয়দের কাছে ‘রাজার পাহাড়’ নামে পরিচিত। শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া বাজারের পেছনে গারো পাহাড়ে এর অবস্থান। টিলাটির উপরিভাগ সমতল। এর নাম কি করে ‘রাজার পাহাড়’ হলো এ বিষয়ে কোন দালিলিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় এ পাহাড়ে গারো নৃ-গোষ্ঠির এক রাজা রাজত্ব করতেন। টিলার বিস্তৃত সমতল ভূমিতেই ছিল তার বাসভবন ও কাচারী। উপর্যুপরি বুনোহাতির আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজার বাড়ি ও কাচারী ধ্বংস হয়ে যায়। ‘রাজার পাহাড়ে’র আশপাশে বসবাসকারী কয়েকজন বৃদ্ধ জানান, টিলার সমতল ভূমিতে ভরাট হয়ে যাওয়া একটি পুকুরের বাঁধানো ঘাটলার কিছু অংশ তাদের পূর্ব পুরুষেরা দেখেছেন।

এলাকাবাসী জানান, ৯১০ একর আয়তনের এ বিশাল সমতল টিলায় পর্যটন করপোরেশন, জেলা প্রশাসন কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ  গড়ে তোলা সম্ভব। চারদিকে অসংখ্য নয়নাভিরাম টিলা, পাহাড়ি সবুজ অরণ্যের বেষ্টনী আর টিলার পাদদেশ ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া ঢেউফা নদীর ফল্গুধারা ‘রাজার পাহাড়’কে অপরূপ করে তুলেছে।

‘রাজার পাহাড়ে’র পাশেই রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী নৃ-গোষ্ঠি অধ্যুষিত বাবলাকোনা, হাড়িয়াকোনা ও খাড়ামুরা এলাকা। এখানে রয়েছে গারো, হাজং, কোচসহ অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠির জনবসতি।

এ প্রসঙ্গে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘রাজার পাহাড়’কে পর্যটন কেন্দ  হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জেলা শহর থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে কর্ণঝোড়া বাজার সংলগ্ন সীমান্ত সড়কের সমতল থেকে রাজার পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় একশ’ মিটার। এ চড়াই পেড়িয়ে চূড়ায় পৌঁছতে হয়। বিস্তীর্ণ এ সমতল ভূমির সিংহভাগ জমিই কর্ণঝোড়া বন বিভাগের অধীনে। এর মধ্যে ১০ একর জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়। এলাকাবাসী জানান, পাকিস্তান আমলে শ্রীবরদী থানায় একজন দারোগা ছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাকে পাগলা দারোগা বলে অভিহিত করতো। তিনি পরিত্যক্ত রাজার পাহাড়ের সন্ধান পান। পরবর্তীকালে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে ঐ স্থানে সুলতানিয়া বাগে মদিনা দরবার শরীফ নামে একটি দরগাহ স্থাপন করেন। বর্তমানে দরবার শরীফটির অস্তিত্ব নেই। তবে তার বংশধরেরা সেখানে বসবাস করছেন। এছাড়া আরেকজন ভূমি অফিস থেকে কিছু জমি লিজ নিয়ে সেখানে সবজি চাষ করছেন।

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা যে কোনো যানবাহনে আসা যায় শেরপুর শহরে। এখান থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদীর কর্ণঝোরা বাজার। বাস, টেম্পুসহ যে কোনো যানবাহনে আসা যায় মনোমুগ্ধকর নয়ানিভিরাম স্থান রাজার পাহাড় থেকে বাবেলাকোনায়। পাশেই রয়েছে অবসর কেন্দ্র। রাত হলে সেখানে থাকার জন্য রয়েছে নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক ভবন। কম খরচে, কম সময়ে এ গারো পাহাড় আপনাকে দেবে অনাবিল আনন্দ।

You might also like