খাবার আনতে বলায় মাকে পেটাল দুই ছেলে

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈলে অসুস্থ নানার জন্য বাজার থেকে সুস্বাদু খাবার কিনে আনতে বলায় নিজের মাকে পেটালেন দুই ছেলে ও ছেলের বউ। এছাড়া বয়স্ক নানাকে লাঞ্ছিত করে শয়ন ঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ছেলেদের বেধড়ক মারপিটে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন মা। অসুস্থ নানার জন্য সু-স্বাদু খাবার বাজার থেকে কিনে আনাকে কেন্দ্র করে নিজের মা ও নানার সাথে অসভ্য আচরণ করে ছেলেরা। এছাড়া নিজের বয়স্ক নানাকে লাঞ্ছিত করে নানার শয়ন ঘর ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

থানা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে অভিযোগ দেওয়ার জন্য বাড়ী থেকে বের হওয়ায় নিজ মাকেই বেধড়ক মারপিট করেছে দুই ছেলে ও ছেলের বউ। এসময় এভাবে প্রকাশ্যে বাজারে নিজ মাকে কেন মারপিট দেওয়া হলো জানতে চাওয়ায় নিজের মামা মমিরুল ইসলামকেও বেধড়ক পিটিয়ে গুরতর জখম করে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।

ঘটনাটি গত (২৮ আগস্ট) শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ডায়বেটিস মোড় এলাকায় ঘটেছে। মা এবং ছেলে দুজনেই বাণিয়া দিঘী নামক এলাকায় নানার বাড়ীতে বসবাস করেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহত অবস্থায় মা ও মামাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। বর্তমানে তারা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপতালে কাতরাচ্ছেন।

এজাহার ও প্রত্যক্ষদশী সুত্রে জানা যায়, বানিয়া দিঘী নামক এলাকায় নানাসহ মা মাজেদা বেগম (৪৫) দুই ছেলে মাজেদুল ইসলাম (৩৫) রশিদুল ইসলাম (৩২) ও ছোট ছেলের বউ আদুরী (২৬) মিলে বসবাস করতো। তাদের মধ্যে মাঝে মাঝেই ঝগড়াঝাটি লাগতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার সকালে তার মায়ের সাথে তার নানাকে কেন্দ্র করে দুই ছেলে ও ছেলের বউয়ের মাঝে কথাকাটি হয়। কথাকাটির এক পর্যায়ে তারা তার মা ও নানাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এর প্রতিবাদ করায় মায়ের সামনেই তার নানার শয়ন ঘর ভেঙ্গে দিয়ে তার নানাকে লাঞ্ছিত করে। এ নিয়ে বিকেলে তার মা মাজেদা বেগম স্থানীয় থানায় ও জনপ্রতিনিধির কাছে বিচার চাইতে যাওয়ার প্রাক্কালে বাড়ীর পাশের বাজার ডায়বেটিস মোড়ে তার মাকে আটকিয়ে অর্তকিতভাবে বেধড়ক মারপিট করে রাস্তায় ফেলে দেয়। তাদের মামা মমিরুল ইসলাম গরু ব্যবসায়ী সে পথ দিয়েই যাওয়ার সময় তার বোনের এমন অবস্থা দেখে ভাগিনাদের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে। তারা দল বেধে তার মামাকেও মারধর করে এবং পকেটে থাকা ১৭,৫০০ টাকা ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় ঐ দিনই দুই ছেলে ও বউদের বিবাদী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতিত মা মাজেদা বেগম। তার মা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেন, নিজের গর্ভের ছেলেরা যখন এভাবে মার দেয় সেখানে বেচে থেকে কি লাভ। তারা যখন ছোট তখনই তারা বাবা আমাদের ছেড়ে অন্যত্রে সংসার পাতেন। আমি ও আমার বাবা ভাই মিলে এদের মানুষ করি অথচ তারায়। তিনি তার ছেলেদের এমন কর্মকান্ডের জন্য দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চান।

এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আঘাত দেখে মনে হচ্ছে ভারী কোন কিছু দিয়ে মারপিট করা হয়েছে।

অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের ছোট ভাই রশিদুল গতকাল শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে মাকে মারপিট দেওয়ার কথা শিকার করে জানান, আমার মা ও মামা আমাদের সকালে মার দিয়েছিল। তাই রাগের বশতে এমনটি ঘটেছে।

রাণীশংকৈ থানার অফিসার ইনর্চাজ এস এম জাহিদ ইকবাল শনিবার (২৯ আগস্ট) মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। বিষয়টা দেখছি।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর