পঞ্চগড় জেলা শহরের করতোয়া নদীর সেতুর নিচে কোন অস্ত্রপচার ও কারো সাহায্য ছাড়াই একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। লিপি আক্তার (৩৫) নামে ওই নারী শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কন্যা সন্তান প্রসব করেন।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ওই নারী ও তার কন্যা সন্তানদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দিয়েছেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় পৌরসভার রামেরডাঙ্গা এলাকায় হাশিম ওরফে মাঞ্জা মিয়ার স্ত্রী লিপি আক্তার ৪ বছরের এক কন্যা সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্নস্থানে ভিক্ষাবৃত্তি করে আসছেন। শহরের বকুলতলাসহ বিভিন্ন স্থানের দোকানপাটের সামনে রাত্রি যাপন করতেন। তার স্বামী বা অন্য কারো সাথে তার দৈহিক মিলন হওয়ায় সে অন্তসত্তা হয়ে পড়ে। শনিবার দুপুরে বৃষ্টির সময় করতোয়া সেতুর ভিমের ওপর সে কন্যা সন্তান প্রসব করে। প্রসবের পর যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ওই নারী।
নদীতে পাথর উত্তোলন করতে আসা কয়েকজন এ বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পঞ্চগড় থানার উপ-পরিদর্শক শামিম মন্ডল, পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ষ্টেশন ম্যানেজার নিরঞ্জন সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী হাসপাতালে ওই নারী ও তার শিশু কন্যা দেখতে যান এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার স্বামী হাশিম ওরফে মাঞ্জা মিয়া মানসিকভাবে অসুস্থ। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া না করা বা পুষ্টির অভাবে ওই নারীও মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়েন। ভরণ পোষণের কেউ দায়িত্ব না নেয়ায় এক পর্যায়ে ওই নারী শহরের বিভিন্নস্থানে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করেন এবং যেখানে সেখানে রাত্রি যাপন শুরু করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেছে। প্রয়োজনে চিকিৎসা ব্যয় আরও লাগলে তাও করা হবে।
বার্তা বাজার / ডি.এস