বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামে আপন ভাই-বোন হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। আপন ভাগ্নি শিফা আক্তার(১৪) ও মেহেদী হাসান কামরুলকে (১০) গলা কেটে হত্যা করেছে বলে আদালতে বাদল মিয়ো (৩০) স্বীকার করেছে। নিহতদের বাবা মোঃ কামাল হোসেনের(৪৬)থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতেই বাদল মিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইনের আদালতে সে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকার সবুজবাগ থানা এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে বাদল মিয়াকে। সে ভাগ্নে-ভাগ্নিকে গলাকেটে খুন করার কথা পুলিশের কাছেও স্বীকার করে।
গত বুধবার রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাদল মিয়া বিভিন্ন সময় ১৩ লাখ টাকা ধার নেয় নিহতদের বাবা কামাল হোসেনের কাছ থেকে। তিন লাখ টাকা পরিশোধও করেন বাদল মিয়া। ভগ্নিপতি কামাল হোসেন বাকি ১০ টাকার জন্য বাদল মিয়াকে চাপ দিলে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। সপ্তাহখানেক আগে এর জেরে বাদল মিয়াকে থাপ্পড় মারেন কামাল হোসেন। আর এই থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতেই বাদল মিয়া পরিকল্পনা করে। গত গত ২৪ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে বাদলের রুমে কামালের ছেলে কামরুল আসে। তখন কামরুলের দুই হাত বেঁদে ছুরি দিয়ে গলাকেটে তাকে হত্যা করে। পরে চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে।
এদিকে, মাগরিবের আজানের পর কন্যা শিফাকে ঘরে রেখে কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগমকে নিয়ে ছেলে কামরুলকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হন। পরে শিফা আক্তার মামা বাদল মিয়ার রুম ঝাড়ু দেওয়ার সময় খাটের নিচে কামরুলের লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে। তখন বাদল মিয়া ভাগ্নি শিফা আক্তারকে জোরকরে বাথরুমে নিয়ে একই কায়দায় ছুরি দিয়ে গলাকেটে লাশ চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এদিকে ছেলেকে খুঁজতে এলাকায় মাইকিং করে বাড়িতে ফিরে দেখেন কন্যা শিফাও নেই। পরে দুই সন্তানকে অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খাটের নিচে দু’জনের লাশ পাওয়া যায়। গত বুধবার রাতে নিহতদের পিতা কামাল হোসেন বাঞ্ছারামপুর থানায় বাদল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন চৌধুরী জানান, গ্রেফতারকৃত বাদল মিয়া আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।
বার্তা বাজার কে.কে