কাশিমপুরে কয়েদির পলায়ন: দায়িত্বে অবহেলায় ২০ কর্মচারীর নাম

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারাগারের ২০ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে ঘটিত তদন্ত কমিটি। শাস্তি হিসাবে এদেরকে চাকরি বিধি অনুযায়ী কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র জানিয়েছে দায়িত্বে অবহেলায় কয়েকজন চাকরিচ্যুতও হতে পারেন। পদায়ন হতে পারে ৩ উর্ধ্বতন কর্মকর্তার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আগে করা তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো কারা কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। এবারের তদন্ত করা হয়েছে কারা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে। এবার সুপারিশ বাস্তবায়ন হবেই হবে।

দায়িত্বে অবহেলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীরা হলো- ১. সর্বপ্রধান কারারক্ষী আবুল কালাম আজাদ, ২. গোয়েন্দা সহকারী প্রধান কারারক্ষী আহম্মদ আলী, ৩. গোয়েন্দা কারারক্ষী হক মিয়া, ৪. কারারক্ষী মনিরুল ইসলাম, ৫. কারারক্ষী আলী নূর, ৬. কারারক্ষী সজীব হোসাইন, ৭. নবীন কারারক্ষী আনোয়ার, ৮. কারারক্ষী ইউসুফ, ৯. সহকারী প্রধান কারারক্ষী আ. রউফ, ১০. সহকারী প্রধান কারারক্ষী শওকত আলী, ১১. কারারক্ষী রাকিবুল হাসান, ১২. কারারক্ষী মো. শহিদুল ইসলাম, ১৩. কারারক্ষী আরিফ সরকার, ১৪. ডেপুটি জেলার মো. ফারুক হোসেন, ১৫. ডেপুটি জেলার মো. মনির হোসেন, ১৬. ডেপুটি জেলার মো. আখেরুল ইসলাম, ১৭. ডেপুটি জেলার নূর মোহাম্মদ সোহেল, ১৮. জেলার মো. বাহারুল ইসলাম, ২০. জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহানারা বেগম।

ভবিষ্যতে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে তার জন্য কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি-

১. সব কারাগারে নিজ কারা ভবনের বাইরে কয়েদিদের কয়েদি পোশাক পরা নিশ্চিত করা।

২.বন্দী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও বন্দী পলায়নরোধে ব্যর্থতার জন্য দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারাবিধি ও চাকরিবিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

৩.বন্দীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও পূর্ব অপরাধের ভিত্তিতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

৪. একই কারাগারে বা একই কর্মস্থলে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দীর্ঘদিন কর্মরত না রাখা।

৫. কারাগারে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংঘটিত হলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিতকরণের ব্যবস্থা করা।

৬. কোনো কারাগারে পলায়ন সহায়ক সামগ্রী বা কোনো ঝুঁকিপূর্ণ দ্রব্যাদি না থাকে, তা নিশ্চিত করা।
সূত্র-জাতীয় দৈনিক
বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর