বঙ্গোপসাগরে জেলেদের সীমানা নির্ধারণের নামে চলছে কোটি কোটি টাকার বানিজ্য

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সংলগ্ন দক্ষিন বঙ্গোপসাগরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে জেলেদের মাছ ধরার নির্দিষ্ট এলাকা বিক্রি।

গত এক দশক ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সমুদ্রে জেলেদের মাছ ধরার সীমানা নির্ধারনের নামে চলছে কোটি কোটি টাকা আদায়। অথচ এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কিছুই জানে না। ফলে বছরের পর বছর ধরে এ সিন্ডিকেটের কাছ জিম্মি হয়ে রয়েছে জেলার উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার ইঞ্জিন চালিত ছোট নৌকার জেলে।

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন জেলার উপকূলীয় এলাকার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক জেলে। ট্রলারের লাইসেন্স আর মৎস্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হওয়া ছাড়া অন্য কোন কাগজপত্র প্রয়োজন না হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে সমুদ্রে মাছ ধরার সীমানা র্নিধারন নিয়ে চলছে রমরমা বানিজ্য। প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাছ ধরার নির্দিষ্ট জল সীমা প্রতি এক মৌসুমের জন্য জেলে প্রতি দিতে হচ্ছে ১০ থেকে বিশ হাজার টাকা। এতে প্রতি মৌসুমে জেলেদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা।

ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মাছ ধরার নিদিষ্ট জলসীমা না কিনে জাল পাতলে লুট করে নেয়া হচ্ছে মাছ, কেটে দেয়া হচ্ছে জাল। নিয়ে যাওয়া হয় ট্রলারের ইঞ্জিন। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকে হয়েছেন শারিরীক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার।

সম্প্রতি (২৪ আগষ্ট) ১৯টি খুটা জেলে নৌকার প্রায় অর্ধশতাধিক জেলে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সামনে এনিয়ে বিক্ষোভ করেন। এসময় ভূক্তভোগীরা বলেন, জেলে সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি, সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য জলসীমা প্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায়, জল সীমা নির্ধারন নিয়ে স্বজনপ্রীতি সহ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা জেলে সংগঠনের নেতাদের টাকা না দিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া আশার আলো নামের একটি জেলে ও মৎস্যজীবী সংগঠনের ছয়টি ইউনিট কমিটি বাতিল সহ সাগরে নির্বিঘ্নে জাল ফেলে মাছ শিকারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন জেলেরা।

ভুক্তভোগী জেলেরা বলেন, প্রশাসনের দৃঢ় পদক্ষেপে সাগরের জলদস্যুতা থেকে জেলেরা মুক্তি পেলেও মাছ ধরার জন্য জাল ফেলার জলসীমা নির্ধারনের নামে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নতুন কৌশলে নির্যাতন ও হয়রানি হতে হচ্ছে তাদের।

কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলি ইউপি চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা জেলেদের অভিযোগের বরাত দিয়ে বলেন, সাগরের জলসীমা বিক্রির একটি অংশ কুয়াকাটার আশার আলো মৎস্যজীবি সমিতির নামে জমা হয়।

অভিযুক্ত আশার আলো মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি নিজাম শেখ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাগরে জাল পাতা নিয়ে প্রায়শই দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ঘটতো। তাই ৬টি ইউনিট কমিটির মাধ্যমে ১৪০ হাত পরপর খুঁটা বসিয়ে জাল পাতার জন্য দ্বায়িত্ব দেয়া হয় ইউনিট কমিটিকে। সীমানা র্নিধারনের সময় ট্রলার প্রতি প্রকারভেদে তেল খরচ বাবদ ৩শত থেকে ৭শত টাকা নেয়া হয়।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাহমুদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কখনো কোন জেলে তাদের কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর