কাশিমপুরে কারারক্ষীদের অবহেলায় নিজের বানানো মই বেয়ে পালাল কয়েদি

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অভিনব উপায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিক পালিয়ে গেছেন। কারাগারের ভেতর বসে মই তৈরী করে সেই মই বেয়েই পার হয়েছিলেন কারাগারের প্রধান ফটক। পালানোর সময় তার পরনে ছিল না কয়েদির পোশাক। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীদের কেউই দেয়নি বাঁধা এমনকি কারাগারের ভেতরে বসে মই বানাতে দেখলেও কেউ জিজ্ঞেস করেনি এই মই কেন এবং এটা দিয়ে কি হবে।

গত ৬ আগস্ট ঘটনাটি ঘটার পর থেকে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে সংশ্লিষ্টদের মাথায়। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে কয়েদি পালানোর ঘটনায় তদন্তের জন্য ঘটিত কমিটির অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, ৪২ জন কারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে তৈরী করা হয়েছে প্রতিবেদন।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি ৮ ও ১৩ আগস্ট কারাগার পরিদর্শন করেন। এই কমিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রতিবেদন জমাও দিয়েছে।

জানা যায়, কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ১৬ ঘন্টা পর মেইলের মাধ্যমে জানানো হয় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে। এই ঘটনা যেদিন ঘটে সেদিন কারাগারের অর্ধেকেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা অচল ছিল। সার্চ লাইটও অকেজো ছিল সেদিন।

তদন্ত কমিটির বর্ণনায় বলা হয়, কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিক ৬ আগস্ট বেলা সোয়া ১১টার দিকে নিজের কাঁধে করে একটি মই নিয়ে সাধারণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় বের হয়ে যান ব্রহ্মপুত্র ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তখন ফটকে দায়িত্বরত কারারক্ষীরা আড্ডায় মশগুল ছিলেন। কারাগারের মূল ফটক দিয়ে অবস্থানরত কারারক্ষীর সামনে দিয়ে মই নিয়ে গেলেও কেউ জিজ্ঞেস পর্যন্ত করেনি আবু বক্কর সিদ্দিককে।

এর পর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ফটকে মই পড়ে থাকতে দেখে একজন কারারক্ষী কয়েদি গোয়েন্দা জাকিরকে দিয়ে কেস টেবিলে পাঠায় সেটি। তখন কেস টেবিলে বসা ছিলেন সর্বপ্রধান কারারক্ষী।

তদন্ত কমিটি জানায়, জেল সুপার ও জেলার যদি তাদের তদারকি আরও ভালভাবে করতেন, ডেপুটি জেলাররা যদি তাদের নির্দিষ্ট স্থানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করতেন ও কারারক্ষীরা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেন তাহলে কারাগারের ভেতরে কোনো কয়েদি মই তৈরী করার দুঃসাহস পেতো না।

এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ও শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছিল, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সূত্র-জাতীয় দৈনিক।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর