ভাইরাল সেই শিশুকে মারধর করে অভিনয়ে বাধ্য করা হত!

নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে এক শিশুকে দিয়ে টিকটকের মত কথিত ফানি ভিডিওর নামে যৌন কন্টেন্ট বানাতো সুনামগঞ্জের একদল বখাটে যুবক। মাঝে মাঝে ভিডিও বানানোর জন্য মারধরও করা হয়েছে শিশুটিকে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে বখাটেদের গ্রেফতার করে বাড়ানো হয় অনলাইনে নজরদারি।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধি এই শিশুটি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগকে কাজে লাগায় এলাকার কিছু কিশোর। তারা শিশুটিকে দিয়ে ভিডিও তৈরী করতো ইউটিউব, টিকটক ও লাইকির মত ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপে আপলোড করার জন্য। মদপান করিয়ে শিশুটিকে দিয়ে ইচ্ছামত অভিনয় করাতো ভিডিওর জন্য। বেসামাল অবস্থায় শিশুটিকে বাধ্য করানো হতো অভিনয় করতে। মাঝে মাঝে কথামত অভিনয় না করলে মারধরও করা হতো।

সম্প্রতি বিষয়টি পুলিশের নজরে আসলে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ওই গ্রুপের ৮ সদস্যকে। পুলিশ জানায় তারা সবাই সাইবার অপরাধ করেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, আমার অনেকগুলো ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল। সম্প্রতি আমার ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে না বলে তারা আমাকে মারধর করে। আমার চুল কেটে নিয়েছে। তাদের কথামত কাজ না করলে আগে থেকেই আমাকে মারধর করতো।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, সাইবার অপরাধ ঠেকাতে প্রতিটা উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়ের মা বাবার আরও সচেতন হওয়া দরকার। আমরা সাইবার অপরাধ দমনে নজরদারি অব্যহত রাখছি।

এলাকার সচেতন মানুষের দাবি, ইন্টারনেটের সহজল্ভ্যতা আমাদেরকে যেমন গতি দিচ্ছে ঠিক তেমনই ক্ষতিও করছে। তাই আমাদের সবাইকে আরও সচেতনতার মাধ্যমে নিরাপদভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে উৎসাহী হতে হবে। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রবণতা ত্যাগ করাতে প্রতিটা অভিভাবকের আরও সচেতন হতে হবে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর