সড়ক বিভাগের ‘মি. টু পারসেন্ট’র দুর্নীতিনামা

সাথে দু’জন বডিগার্ড নিয়ে প্রতিদিন রাজধানী থেকে বিলাসবহুল পাজেরো গাড়িতে চড়ে গাজীপুর যান অফিস করতে। অফিসে পৌঁছে কামড়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে দুই বডিগার্ড। ঠিকাদাররা কাজের বিলের জন্য তার কাছে গেলে ‘টু পার্সেন্ট’ ঘুষ দাবী করে বসেন। তার এই দাবী পুরণ না করলে ছাড়া হয়না বিল। এটা যেন তার রীতিতে পরিণত হয়েছে।

এমন গুরুতর অভিযোগের পরেও বহাল তবিয়তে দুর্নীতির রাজত্বে রাজা বনে গিয়েছেন গাজীপুরের গণপূর্ত, জনস্বাস্থ্য ও সড়ক বিভাগের বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মমতাজ আলা জাকির আহম্মেদ। সম্প্রতি গোপন ক্যামেরায় তার এসব কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে বলেও জানা গেছে।

জানা যায়, নিজের কিছু ঘনিষ্ঠ লোকের নামে লাইসেন্স নিয়ে তাদের মাধ্যমেই করাচ্ছেন বিভিন্ন কাজ। কিছুদিন আগে ‘আঁখি এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সড়ক ভবন স্টাফ কোয়ার্টারের সংস্কার করতে ১৪ লাখ টাকার কাজ করিয়েছেন। কাপাসিয়ায় একটি রাস্তার কাজও তিনি করিয়েছেন। তার এমন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় ঠিকারদের নামে মামলাও করেছেন তিনি। গাজীপুরেরই ঠিকাদার মাসুদ, মজিবুর, আব্দুল কাদিরসহ আরও কয়েকজন এর ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ করেছেন।

গাজীপুরের গণপূর্ত, জনস্বাস্থ্য ও সড়ক জনপথের কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের অভিযোগ, জাকিরের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দিতে চাইলে তিনি ‘ওপর মহলে’ হাত আছে বলে হুমকি দেন। তিনি প্রায়ই বলে বেড়ান, ‘এজি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমি মাসোহারা দিই। তাই হেড অফিসে অভিযোগ করে কোনো কাজ হবে না।’

‘টু পারসেন্ট’ ঘুষ নিয়ে তিনি অবৈধ সম্পদের পাহাড় বানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধানমন্ডিতে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। মোহাম্মদপুর এলাকায় ঢাকা উদ্যানের পাশে পাঁচ কাঠা জমিতে টিনশেড ঘর করে ভাড়া দিয়েছেন, মিরপুরেও তার একটি ফ্ল্যাট আছে। খিলক্ষেত এলাকার নিকুঞ্জে পাঁচ কাঠা জমির ওপর রয়েছে টিনশেড একটি বাসা। সেটাও ভাড়া দেওয়া আছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিলের ‘টু পারসেন্ট’ তাকে দিয়ে সম্মত হলে ফাইল ছাড়েন নয়তো ফাইল আটকে থাকে তার টেবিলে। ভুক্তভোগী কয়েকজন ঠিকাদারও জানান, তাকে ‘টু পারসেন্ট’ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

বিষয়টা নিয়ে সড়কের প্রকৌশলীরাও বিব্রত। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রকৌশলী জানান, তার নিয়োগ হয়েছে অন্য অফিস থেকে। যে কারণে সড়কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

এসব বিষয় আলা জাকিরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে প্রথমে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শোনেন, এরপর লাইন কেটে দেন। পরে আবার ফোন দিলে আরেকজনকে দিয়ে ফোন ধরিয়ে বলেন, তিনি সেখানে নেই। এভাবে এক সপ্তাহ চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরাবরই অভিযোগ আর সাংবাদিক পরিচয় শুনেই লাইন কেটে দেন তিনি।

পূর্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক সাইফুল ইসলামের কাছে তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা বেনামি অভিযোগ পেয়েছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মমতাজ আলা জাকিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, আলা জাকির ২০১৭ সালে গাজীপুরের সড়ক ও জনপথে বিভাগীয় হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তার আগের কর্মস্থল ছিল কুড়িগ্রাম, নরসিংদী ও নারায়গঞ্জ সড়ক বিভাগ। এর আগেও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে তিনি কারাগারে গেছেন। কুড়িগ্রামে সড়ক ভবনের দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেল খেটেছেন তিনি। সূত্র-সারাবাংলা।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর