বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত করলেন জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট
ঢাকার সাভারের বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বনগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজ পরিষদের ১১ জন ইউপি সদস্যের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হামিদুর রহমান বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি সদস্যদের দেওয়া দুর্নীতি ও অনিয়ম এর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেন।
এসময় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, ইউপি সদস্যগণ ও স্থানীয়দের সাথে আলাদা আলাদা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
গণমাধ্যমকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, বনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১ জন ইউপি সদস্য বিভিন্ন প্রকল্পসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ দিয়েছে আমরা তা তদন্ত করে দেখছি।
আরও গভীর ভাবে তদন্ত করে যদি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে চেয়ারম্যানকে হয়রানী করা হয় এবং তদন্তে যদি বিষয়টি প্রমাণিত হয় তাহলে চেয়ারম্যান যদি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তদন্ত করতে আসছেন, এমন কথা শুনে সেখানে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে যারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
স্থানীয়রা এসময় জানায়, সাইফুল ইসলাম চেয়ারম্যান বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নানা উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। নানা প্রতিকুলতার মাঝে তার এসব উন্নয়ন দেখে একটি মহল বিভিন্ন ভাবে মানুষকে অর্থ সহয়তা দিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত হয়রানী করে যাচ্ছেন। এছাড়া এঘটনায় ঘটনাস্থলে ম্যাজিষ্ট্রেট আসার আগে চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষের লোকজন পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।
এবিষয়ে বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কোন প্রকল্পসহ কোন বিষয়ে দুর্নীতি করিনি তাই আমার কোন ভয়ও নেই। এসময় তিনি তার বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করে বলেন, একটি প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন মানুষকে অর্থ সহায়তা দিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বনগাঁও ইউনিয়নবাসীকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকারও আহবান জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) জাকারিয়া হোসেন বলেন, বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে তদন্ত কর্মকর্তা আসার আগে বেশ কয়েকটি পক্ষ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির অবনতি করতে চেয়েছিলো; কিন্ত তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরে তখন ঘটনাস্থল থেকে সবাইকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি অনুকুলে রাখা হয়। কেউ বেআইনি ভাবে বিশৃংখলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও বলেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তার সাথে এসময় সাভার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হ্যাপি দাসসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
কেএস/বার্তাবাজার