টেকনাফ থানার সদ্য বহিষ্কার হওয়া বিতর্কিত ওসি প্রদীপের হিংস্র থাবায় আক্রান্ত সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা দীর্ঘ ১১ মাস ৫ দিন পর জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন।
আজ সন্ধ্যা ৬ টায় তিনি কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন। এ সময় ফরিদুল মোস্তফার পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা কারা ফটকে উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে টেকনাফ থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-এসটি ২৮১/২০২০, জিআর-৫৭৭/২০১৯ শুনানি শেষে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত ফরিদুল মোস্তফার জামিন আদেশ বহাল রাখেন যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান। এর আগে জি.আর ১০২৫/২০১৯, জি.আর ১০২৬/২০১৯ সাজানো মামলা দুটিতে জামিন দেন বিচারক মো. ইসমাইল। এছাড়াও টেকনাফ থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-৪২/২০১৯ (জি.আর ৭৭৮/২০১৯) মামলা থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত জামিন প্রদান করেছিলেন টেকনাফের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ।
মামলার শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন কক্সবাজার জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম ছিদ্দিকী।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের ভাড়া বাসা থেকে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে গ্রেফতার করে মহানগর পুলিশ। এর পরের দিন সদ্য বহিস্কৃত ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার তার বাড়িতে নিয়ে কথিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২টি অস্ত্র, বেশ কিছু গুলি, ৪ হাজার ইয়াবা ও বিপুল পরিমান বিদেশী মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবী করে। শুরু থেকেই এসব অভিযোগ সাজানো নাটক বলে দাবি করে আসছিলো তার পরিবার।
আটক পরবর্তী ওসি প্রদীপের নির্মম নির্যাতনে কারাগারে মারাত্বক অসুস্থ ছিলেন। কারাগার থেকে বের হয়ে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই সাংবাদিক গোলাম আজম।
বার্তা বাজার / ডি.এস